পশ্চিমা বিশ্বে ধাবমান যুদ্ধের সংকট
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এরই মধ্যে বিশ্ব বাজারে সংকট বাড়াচ্ছে। এ যুদ্ধ আরো দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব আরো বিপদে পড়বে বলে সতর্ক করা হয়েছে অনেক। তবে যুদ্ধ যেন ক্রমেই আরো বেপোরোয়া গতি পাচ্ছে। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ না করলে ‘অপ্রত্যাশিত পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে পাঠানো দুই পাতার রুশ কূটনৈতিক নোটটি হাতে পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে রাশিয়া পরমাণু হামলা চালাতে পারে, এমন বার্তা দিয়ে আবারও সতর্ক করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শনিবার দেশটির সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা বসে থাকতে পারি না, বিশ্বকে অবশ্যই সম্ভাব্য পরমাণু হামলার বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। এর আগে বৃহস্পতিবারও তিনি এমন সতর্কবার্তা দেন।
রাশিয়ার ব্ল্যাক সি ফ্লিটের ফ্ল্যাগশিপ যুদ্ধজাহাজ মস্কভা কৃষ্ণসাগরে ডুবে যাওয়ার পর পরিস্থিতি ক্রমেই ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। রাশিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের প্রধান জেনারেল মিখাইল মিজিন্তসেভ বলেন, ‘রুশ সৈন্যদের ঠেকাতের কৃষ্ণ সাগর, আজভ সাগর ও ভূমধ্যসাগরে মাইন পেতে রেখেছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। এ কারণে দেশটির বিভিন্ন বন্দরে ১৮টি দেশের ৭৬টি জাহাজ আটকে আছে। তাদেরকে বন্দর ত্যাগের নির্দেশ দিচ্ছে না ইউক্রেনের সরকার।’
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট বাইডেন সম্প্রতি ইউক্রেনের জন্য অতিরিক্ত ৮০ কোটি ডলার মূল্যের সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি প্রস্তাব অনুমোদন করার পর রাশিয়া এই হুঁশিয়ারি দিলো। প্রস্তাবিত নতুন সহায়তার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে দূরপাল্লার কামান, উপকূল প্রতিরক্ষা ড্রোন, ভারি সাঁজোয়া যান এবং ট্যাঙ্ক ও বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাচ্ছে।
এদিকে মারিওপোলে ইউক্রেনের সৈন্যদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে রাশিয়া বলেছে, যারা অস্ত্র সমর্পণ করবে তাদের জীবনের নিশ্চয়তা দেয়া হবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই বলেছেন, মারিওপোলে ইউক্রেনের যোদ্ধাদের নিশ্চিহ্ন করার অর্থ হলো আলোচনার সমাপ্তি টেনে দেওয়া।
এর আগে বৃহস্পতিবার সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম বার্নস বলেন, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাতে রাশিয়া কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। রাশিয়া ইউক্রেনে এখন পর্যন্ত কোনও পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে বলে খবর পাওয়া যায়নি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ বাহিনীকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর ‘আক্রমণাত্মক বিবৃতি’র প্রতিক্রিয়ায় এ নির্দেশ দেন তিনি।
এদিকে রাশিয়ার মিসাইল ক্রুজার এ জাহাজটিকে দেশটির সামরিক শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হতো মস্কভাকে। ইউক্রেন হামলায় রুশ নৌবাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিল যুদ্ধজাহাজটি। কৃষ্ণ নাগরে রুশ যুদ্ধজাহাজ মস্কোভায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে এ বিষয়ে নড়ে চড়ে বসেছে মস্কো।








