প্রকৃতিতে ঝড়-বৃষ্টির দুর্যোগ চললেও এখন সারি সারি আমের বাগানে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় সুমিষ্ট হাঁড়িভাঙা আম। এই দুর্যোগে আম নিয়ে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা। করছেন লাভের আশা। সুদিন ফিরবে, এমন আশাও রয়েছে তাদের।
রংপুরের বদরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নে হাঁড়িভাঙা প্রায় শতাধিক আমের বাগান রয়েছে। স্থানীয় কেয়া নার্সারি থেকে আমের চারা সংগ্রহ করে গত বছর থেকে বাগানে আম আসতে শুরু করেছে। এবছরও প্রচুর আম রয়েছে গাছে। কিন্তু ঝড়-বাদলের কারণে বাগানের প্রায় ২০ শতাংশ আম ঝড়ে পড়েছে।
আম চাষিরা বলেন, বাগানের আম নামতে এখনও অনেক দেরি। কিন্ত এরই মধ্যে দূর-দূরান্ত থেকে আসতে শুরু করেছে আমের পাইকাররা। এসব আম কিনে তারা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠাবে।
হাঁড়িভাঙা আমের স্বাদ অত্যন্ত সুমিষ্ট। আঁশ প্রায় নেই বললেই চলে। জ্যৈষ্ঠের শেষের দিকে এই আম পাকতে শুরু করে তা আষাঢ়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত পাওয়া যায়। আমটি দেখতে কিছুটা লম্বাটেসহ গোলাকৃতির এবং কালচে সবুজ রংয়ের হয়ে থাকে। আবার পাকলে কিছুটা লালচে রঙ ধারণ করে। প্রতিটি হাঁড়িভাঙা আমের ওজন ২০০ গ্রাম থেকে ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। সুমিষ্ট ও সুস্বাদু হওয়ায় এই আমের সুখ্যাতি এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।
এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, এলাকার প্রতিটি বাগান তৈরিতে মাটি নির্বাচন থেকে শুরু করে পরিচর্যা পর্যন্ত কৃষি বিভাগ পরামর্শ দেওয়া হয়। এবছর কয়েক দফা ঝড়ে আমের প্রচুর ক্ষয় ক্ষতি হলেও যা আম রয়েছে তা দিয়েই ভালো দাম পেলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন আম চাষিরা।
এলাকার আম চাষিরা জানান, গত বছর হাঁড়িভাঙা আম কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এবছরও ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে চাষিদের। তা নাহলে এবার বিশাল লোকসান হবে বলে জানান তারা। চলতি বছর চাষিরা এই হাঁড়িভাঙা আমে বড় একটা লাভের আশা করছেন। সেইসাথে প্রকৃতির বৈরী আচরণে কপালে দুশ্চিন্তার ভাজও পড়েছে তাদের।
আনন্দবাজার/তা.তা








