সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বল্লা ভেঙ্কুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক রশিদ ভূঁইয়া ২০ শতাংশ জমিতে লেবু চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার দেখাদেখি লেবু চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরছে অনেক কৃষকের। বছর জুড়ে চাহিদা থাকায় এবং অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় বেশী বেশী লেবু চাষে আগ্রহী হচ্ছেন গ্রামের অনেকই ।
কৃষক রশীদ ভূঁইয়া জানান প্রায় ৯ থেকে ১১ বছর ধরে লিচু চাষ করে আসছি কিন্তু এবার লিচু চাষের পাশাপাশি বসত বাড়ির পাশে প্রায় ২০ শতক জমিতে লেবু চাষ করেছি। তিনি আরো বলেন পরীক্ষামূলক ভাবে এই প্রথম লেবুর চাষ শুরু করেছি, এবং আশা অনুরুপ ফলন ও পেয়েছি। মোট ২০ শতাংশ জমির লেবু আমি বাজারে বিক্রয় করে অনেক লাভবান হয়েছি।
কৃষক রশিদ ভুইঁয়ার নিকট লেবু চাষের খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমি তৈরি থেকে শুরু করে সব মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা কিন্তু ফলন ভালো হলে সব খরচ বাদ দিয়েও বছর শেষে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে জানান তিনি। রশিদ ভুইঁয়া আরো জানান যে, ২০ শতাংশ জমি থেকে সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই ৩০০ পিস লেবু তুলে বাজারে বিক্রি করছেন।
বাজার মূল্য জানতে চাইলে তিনি বলেন গত মাস থেকে চলতি আষাঢ় মাস পর্যন্ত প্রতি পিস লেবু ৩ থেকে ৫ টাকা দরে পাইকারি দামে বিক্রি করছেন।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, রশিদ ভূঁইয়ার সাফল্য দেখে আগ্রহী হয়ে অন্য কৃষকরাও লেবু চাষ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বাজারে তার লেবুর কদরও বেশি এমটি শোনা গেল এক ক্রেতার নিকট হতে। কৃষি অফিসের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এবং বাজারে লেবুর ন্যায্য মূল্য পেলে এ অঞ্চলে লেবু চাষের পরিধী আরো বাড়বে এমনটি ধরণা সাধারণ কৃষকের। সেক্স ফেরোমন ফাদ সহ বাজারে বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করে নিরাপদ লেবু উৎপাদন কৃষকদের মাঝে বেশ সাড়া জাগিয়েছে।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সব সময় আধুনিক পদ্ধতিতে লেবু উৎপাদন এবং পোকা-মাকড় ও রোগ দমনে আই পি এম পদ্ধতিসহ কার্যকর পদ্ধতি প্রদান করে থাকেন।
আনন্দবাজার/শহক/আবির







