প্রতিটি বাবা-মায়ের সৌভাগ্য বয়ে আনে তাদের সন্তান। আর পরিবারের যত্ন-আত্তির উপরই নির্ভর করে এই খুদের মানুষটির ভবিষ্যত। একটি শিশু অনকেটা কাদা মাটির মতো। পরিবার তাকে যা শেখাবে সে সেটাতেই অভ্যস্ত হয়ে যাবে।
বর্তমানে বেশিরভাগ বাবা-মা কর্মজীবী হওয়ায় কারণে তারা শিশুকে সময় দিতে পারেন। ফলে বাধে যত বিপত্তি। শিশু একাকীত্ব অনুভব করায় দিনকে দিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে থাকে। এ সময় অনেক বাবা-মা শিশুর বোবাকান্না টের পায় না।
অনেক দায়িত্বশীল মা-বাবা এ ব্যাপারে বেশ ভুল করে থাকেন। তাদের একটি ভুলের জন্য একটি নষ্ট হতে পারে শিশু উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।
চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সেই ভুলগুলো কি কি:
১. চাকুরীজীবি পরিবারের শিশুরা একটু ভিন্ন ভাবে বেড়ে ওঠতে থাকে। যখন মা-বাবা দুজনেই কাজকর্মে ব্যস্ত থাকেন, তখন তাদের একমাত্র আদরের সন্তানের স্থান হয় ডে-কেয়ার হোম কিংবা বাড়ির কাজের মেয়ের কোলে।
২. শিশুটি যখন একটু বড় হয়ে যায় তখন তার আশেপাশে কাউকে না পেয়ে একাকীত্ব অনুভব করে। এর ফলে সে বেছে নেয় ইন্টারনেট, টেলিভিশন, আত্মঘাতী ভিডিও গেমস ও অশ্লীল ভিডিও ইত্যাদি।
৩. যার ফলে শিশুটি একঘেয়েমি হয়ে ক্রমশ জেদি হয়ে ওঠে। ততদিনে শিশুটি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে যায়। এতেকরে দেখা দেয় শিশুর মিথ্যা বলা, না বলে অন্যের জিনিস নিয়ে যাওয়া, সামাজিক নিয়মগুলো না মানাসহ স্কুল পালানো।
৪. শিশুর এইসময়কার মানসিক সমস্যাকে ওডিডি বলা হয়। অপজিশনাল ডেফিয়েন ডিজঅর্ডার। মানে হলো তর্ক করা। বড়দের একদমই মানবে না। তার নিজের কথার পেছনে অনেক যুক্তি দাঁড় করবে।
জেনে নিন এগুলো থেকে শিশুদেরকে কীভাবে বের করবেন: ১. অফিস শেষ করে বাড়ি যাওয়ার পথে শিশুর জন্য কিছু গিফট যেমন, তার পছন্দের কিছু খাবার, খেলনা, ইত্যাদি নিয়ে যাওয়া উচিত।
২. বাসায় এসে তাকে সময় দেয় এবং তার সঙ্গে খেলার ছলে প্রচুর শিক্ষনীয় বিষয়ে কথা বলা উচিত। ভালো আচার-আচরণ শেখাতে হবে।
৩. খেয়াল রাখতে হবে শিশু যেন সব সময় টেলিভিশন না দেখে এবং অপ্রাপ্ত বয়সে যেন ইন্টারনেট না ব্যবহার করে। এসব বিষয়ে বাবা-মাকে সচেতন থাকতে হবে।
৪. সাপ্তাহিক ছুটিতে শিশুদেরকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া উচিত। ঢাকার কোলাহল থেকে দূরে কোথাও। যেমন- পাহাড়ে, পার্কে কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাসায়।
৫. একটি শিশুর সামাজিকীকরণ গড়ে ওঠে পরিবার থেকেই। কারণ পরিবারই তার প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
আনন্দবাজার/এম.কে








