গোলাম রসুল পেশায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ১৬ বছর আগে শখের বশে মাটির ব্যাংক ভেঙে ৩৩টি লিচুর চারা কিনে শুরু করেছিলেন চাষ। বর্তমানে সেই চারা থেকেই আয় করছেন লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা। পরে পৈত্রিক ১২ বিঘা জমি এবং লিজ নিয়ে বর্তমানে ২৫ বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশি ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন তিনি। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের মাসলিয়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেন বিশ্বাসের ছেলে রসুল।
জানা গেছে, বর্তমানে তার ১৬ বিঘা জমিতে রয়েছে বল সুন্দরী কুল, কাশ্মেরী আপেল কুল, চায়না কমলা, দার্জিলিং কমলা, মেন্ডারিন কমলা, বারি-১ মাল্টা, মিশরী বারোমাসি শরিফা, থাই শরিফা, সিডলেচ সুগন্ধি কাগজি লেবু, মোজাফফর লিচু, চাইনা-২ লিচু, থাই-৭ পেয়ারা, থাই-৫ পেয়ারাসহ নানা ফলের বাগান। বাকি ৯ বিঘা জমিতে ড্রাগনসহ অন্যান্য ফলের বাগান করার জন্য প্রস্তুতি চলছে।
তবে চলতি বছর আম্ফানের কারণে লিচু খুব একটা বিক্রি করতে পারেননি। এরপরও চলতি মৌসুমে এবার বাগান থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন তিনি।
এই ব্যাপারে গোলাম রসুল বলেন, ছোট বেলা থেকে তার মা ও বড় ভাই মৃত আব্দুল মান্নান মাস্টারের ফলজ ও বনজ গাছ লাগানো এবং পরিচর্যা দেখে তিনি গাছপ্রেমী হয়ে পড়েন। ২০০৪ সালে প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম তার ২ বিঘা জমিতে লিচু গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন আমাকে। তার কথাতেই বাড়ির কাউকে কিছু না বলে মাটির ব্যাংক ভেঙ্গে ৩৩টি মোজাফ্ফর জাতের লিচু গাছ ক্রয় করে তা লাগান।
তবে ওই সময় বাড়ির অভিভাবকরা তাকে অনেক তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন। এরপর ২০০৫ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল যোগদান করেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি পুলিশের উপসহকারি পুলিশ পরিদর্শক হন। ২০০৯ সালে সেই লিচু গাছ থেকে তিনি লিচু পেতে শুরু করেন। প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করছেন জীবনের প্রথম লাগানো লিচু বাগানের টাকায় বাড়ির গেটও করেছেন বলে জানান।
বর্তমানে তার সেই ক্ষেতে কাজ করছেন স্কুল কলেজের শিক্ষিত যুবকরা। করোনার মধ্যে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় মাসলিয়া গ্রামের কামরুল, রানা, ইয়াসিন, সাগর, রাতুল, সামাউল, মাহাবুর, সাহেব আলীর মতো প্রায় ৫০ জন শিক্ষিক ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা তার বাগানে পার্ট টাইম কাজ করেন। একজন পেয়ারায় ১২শ পলি বাঁধলে সে ৫শ টাকা করে পায়। এছাড়া বাগান বা ড়্গেত্রের আগাছ পরিস্কার করার জন্য আলাদাভাবে কাজ করছেন দিনমজুরা।
উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আলী হোসেন জানান, গোলাম রসুল ও তার ভায়েরা নানা প্রকার ফলের আবাদ করে কৃষিতে অবদান রাখছেন। তাদের বাগানেও একাধিকবার গিয়েছি এবং কৃষি বিষয়ক অনেক পরামর্শও দিয়েছি।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে








