রেগুরেটরদের নানান ইতিবাচক উদ্যোগও উত্থান পুঁজিবাজার ধরে রাখতে পারছে না। একদিন পুঁজিবাজার বড় উত্থান হলেও দেখা যাচ্ছে পরেরদিন তা পতনে নেমে আসে। উত্থানে পুঁজিবাজারে শেয়ার ক্রয়ের হিরিক থাকলেও পতন তার উল্টো চিত্র ফুটে ওঠে। তাই বরাবরই পুঁজিবাজারকে হোঁচট খেতে দেখা যাচ্ছে বলে জানান বিনিয়োগকারীরা।
অপরদিক পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছে, পুঁজিবাজারে শেয়ার দর ধারাবাহিক উত্থান আশা করা ঠিক না। আবার ধারাবাহিক পতনও থাকা ঠিক না। তাই স্বাভাবিক পুঁজিবাজারের জন্য শেয়ার দর বাড়া-কমার একটা ছন্দ থাকা জরুরী। তাই শেয়ার দর কিছু বেড়ে কিছুটা কমা খুব জরুরী।
এদিক দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব ধরনের সূচক পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দুই স্টকে কমেছে ৬৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর। আগের কার্যদিবস থেকে এদিন ডিএসইতে লেনদেন কমলেও সিএসইতে বেড়েছে। গতকাল বুধবার দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গতকাল বুধবার দুই পুঁজিবাজারে সব ধরনের সূচক পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন শেয়ার বিক্রয়ের চাপ বেশি ছিল। ফলে দুই স্টকের ৬৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৬৪ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং সিএসইর ৬৫ দশমিক ১০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়েছে। অপরদিক এদিন দুই স্টকের ৩১ দশমিক ৬৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থানে হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ২৬ দশমিক ২১ শতাংশ এবং সিএসইর ২৭ দশমিক ১৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়েছে। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের বাড়া-কমাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র মতে, বুধবার ডিএসইতে দুই-একটি বাদে বাকী সব খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এদিন এই স্টকের বিবিধ এবং সেবা আবাসন খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এছাড়া এদিন এই স্টকের ইঞ্জিনিয়ারিং, বীমা, ওষুধ রসায়ন, নন ব্যাংকিং আর্থিক, জ্বালনি শক্তি বিবিধ, সিমেন্ট, সিরামিক, খাদ্য আনুষঙ্গিক এবং পাট খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ৪২টির মধ্যে ৩১টি, বীমা খাতের ৫২টির মধ্যে ৪৩টি, ওষুধ রসায়ন খাতের ৩২টির মধ্যে ২১টি, নন ব্যাংকিং আর্থিক খাতের ২৩টির মধ্যে ১৫টি, জ্বালনি শক্তি ২৩টির মধ্যে ২১টি, বিবিধ খাতের ১৪টির মধ্যে ১১টি, সিমেন্ট খাতের ৭টির মধ্যে ৪টি, সিরামিক খাতের ৫টির মধ্যে ৪টি, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ২০টির মধ্যে ১২টি এবং পাট খাতের ৩টির মধ্যে ২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর পতন হয়।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে বুধবার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৬৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এদিন ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ ২৮ হাজার ৮০২টি শেয়ার ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৬ বাব হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবস গত মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ৯২১ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার। যা গত তিন মাস চার দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৮টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৮৮টির বা ৩৬ দশমিক ২১ শতাংশ, কমেছে ২৪৩টির বা ৬৪ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং পরিবর্তন হয়নি ২০টির। টাকার অংকে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- ফরচুন সুজ, বেক্সিমকো, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, পাওয়ার গ্রিড, আরএকে সিরামিক, তিতাস গ্যাস, রবি, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ সাবমেরনি কেবলস, বসুন্ধরা পেপার।
গত মঙ্গলবার উত্থানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭ হাজার ৪৯ দশমিক ১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছিল। যা গত এক মাস চার দিন পর ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করেছিল। একদিনের ব্যবধানে বুধবার ডিএসইএক্স ৫৩ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৯৬ দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্টে। এছাড়া এদিন ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট ও ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ১ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৬০৬ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে ও ১ হাজার ৪৯৪ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে।
অপর পুঁজিবাজারে বুধবার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৭২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ৬২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯৮টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৮১টির, কমেছে ১৯৪টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২৩টির। টাকার অংকে সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- বেক্সিমকো, রবি, লিন্ডে বিডি, আরএকে সিরামিক, বসুন্ধরা পেপার, তিতাস গ্যাস, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, আরডি ফুড, ওয়ান ব্যাংক, লার্ফাজ-হোল্ডসিম।
এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৬৯ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৪৯৭ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ১৩ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১৭৪ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ১০৩ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট ও সিএসআই সূচক ৫ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৫২২ দশমিক ৩১ পয়েন্টে, ১৪ হাজার ৩৯৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে, ১২ হাজার ৩১৩ দশমিক ৯২ পয়েন্টে ও ১ হাজার ২৭৮ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্টে।
আনন্দবাজার/শহক








