বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদেই চাষ
কম পুঁজিতেই ঘুচবে বেকারত্ব
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অনেকেই চাকরির পিছু না ছুঁটে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে করে অল্প জায়গায় স্বল্প পুঁজিতে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছেন। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। এতে খুব অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ায় সময়ের সাথে সাথে বায়োফ্লক পদ্ধতি খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে সঠিক প্রশিক্ষনের অভাবে নতুন উদ্যোক্তারা প্রতিনিয়তই পড়ছেন ঝুঁকির মুখে। এতে দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরো সচল করতে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে সরকারি সুযোগ-সুবিধার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে জানা যায়, পুকুরের তুলনায় বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ অধিক লাভজনক। তাই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শিক্ষিত বেকাররা খুঁজে পেয়েছেন আত্মকর্মসংস্থানের নতুন ঠিকানা। প্রতিনিয়তই বাড়ছে নতুন নতুন উদ্যোক্তার সংখ্যা। বেসরকারীভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে উপজেলার হান্ডিমার্কেট, পাড়াগাঁও, চনপাড়া, পূর্বগ্রাম, জাঙ্গীর, হাবিবনগর, বেলদীসহ বিভিন্ন গ্রামের উদ্যোক্তারা বাড়ির আঙ্গিনা কিংবা ছাদে বায়োফ্লক সিট তৈরি করে তেলাপিয়া, কই, সিং, মাগুর, টেংরা, শোলসহ ক্যাটফিস জাতীয় মাছ চাষ করছেন।
প্রথমে লোহার ফ্রেম ও ত্রিপাল দিয়ে বায়োফ্লক সিট বা চৌবাচ্চা তৈরি করা হয়। পরে চৌবাচ্চায় চুন ও প্রোবাইটি ব্যবহার করে পানিতে বিশেষ ফ্লক বা উপকারি ব্যাক্টেরিয়া তৈরি করা হয়। মূলত এ ফ্লক তৈরির কারণেই মাছের খাবার খরচ ৩০ শতাংশই কমে আসে। এছাড়া ফ্লক বা উপকারি ব্যাক্টেরিয়া তৈরির কারণে পানিতে এ্যামোনিয়া বা ক্ষারের পরিমান কমে আসে। এতে মাছ বিভিন্ন রোগ-বালাই থেকে বেঁচে যায়। বায়োফ্লক পদ্ধতিতে অক্সিজেন মিটারের মাধ্যমে পানিতে সার্বক্ষণিক অক্সিজেন দিতে হয়। ফলে মাত্র ৪ ফিট গভীরতায় ১১ বর্গফুট আকৃতির ২টি চৌবাচ্চায় প্রায় ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মাছের পোনা চাষ করা যায়। যা পুকুরের তুলনায় ২০ গুণেরও বেশি।
দুটি চৌবাচ্চা নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জামাদির সামগ্রীক খরচ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ নির্মাণ সামগ্রীটিকেও প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর। এছাড়া বায়োফ্লক পদ্ধতিতে চাষকৃত তেলাপিয়া, কই, সিং, মাগুর, শোল মাছ সাড়ে তিন থেকে ৪ মাসেই বিক্রির উপযোগি হয়ে উঠে। যা পুকুরের তুলনায় মাছের উৎপাদন বহুগুণ বেশি। এ পদ্ধতিতে চাষকৃত মাছের গুণগত মান ও চাহিদা ভালো। ফলে শিক্ষিত বেকারদের কাছে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ যেনো আশার আলো।
বায়োফ্লক চাষি হেলাল ভূঁইয়া, শহীদুল্লাহ, শহীদুল ইসলাম, নাদিমসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, বায়োফ্লক পদ্ধতির প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সহজলভ্য না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তথ্য নিয়ে অনেকেই নতুন নতুন উদ্যোক্তা হচ্ছেন। ফলে সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবে নতুন চাষীরা সাফল্য পাচ্ছেন না। তাই সরকারিভাবে সঠিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে দেশের শিক্ষিত জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ও মৎস্য চাষের মতো সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দিলে বায়োফ্লক পদ্ধতি-ই দেশের অর্থনীতির নতুন মাত্রা হবে বলে দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমরান জানান, এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ খুবই লাভজনক। এতে একদিকে যেমন জায়গা কম লাগে অন্যদিকে এ পদ্ধতিতে পানিতে উপকারি ফ্লক বা ব্যাক্টেরিয়া তৈরি করায় ক্ষতিকর এ্যামোনিয়া এসিড নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে পানির গুণগত মান খুবই ভালো থাকে। যার কারণে মাছ বিভিন্ন রোগ-বালাই ও মড়ক থেকে বেঁচে যায়। তবে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষের আগে চাষিকে অবশ্যই এ বিষয়ে পূর্ণ প্রশিক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ নুসরাত জাহান জানান, বায়োফ্লক পদ্ধতি খুবই নতুন ও প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে গবেষণা চলছে। সরকারি নির্দেশনা পেলে উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
আনন্দবাজার/এম.আর








