- বিভিন্ন কারখানায় ১১ লাখ
- পোশাক শিল্পে ৫-৭ লাখ
- দক্ষতার অভাবে কম বেতন পান প্রবাসীরা
দেশের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে আগামীতে এক কোটি দক্ষ লোকের প্রয়োজন পড়বে। বিভিন্ন কারখানায় দরকার হবে ১১ লাখ দক্ষ কর্মী। সেই সঙ্গে তৈরি পোশাক কারাখানাগুলোতে প্রয়োজন হবে ৫ থেকে ৭ লাখ দক্ষ কর্মীর। পোশাকখাতের এই সংখ্যক লোক দেশের বাইরে থেকে এসে বিপুল অংকের টাকা নিয়ে যাচ্ছে। এসব তথ্য তুলে ধরেছেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) দুলাল কৃষ্ণ সাহা। তিনি ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় দক্ষতা প্রতিযোগিতা ২০২১’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
দুলাল কৃষ্ণ সাহা আরো বলেন, দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। এখানে অনেক জনবল দরকার। পোশাক ও চামড়া শিল্পেও অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারছি না। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্যও ভারত থেকে লোকজন নিয়ে আসতে হয়। বিশ্বব্যাংকের মানবসম্পদ সূচকে আমরা পিছিয়ে আছি।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের প্রবাসীরা দক্ষতার অভাবে কম বেতন পায়। এসব সমস্যা সমাধানে প্রাইভেট ও এনজিওসহ সব ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করবে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া তরুণদের সঙ্গে কারখানার সংযোগ তৈরি করে দিতে কাজ করবেন তারা। এ সময় ২০৩৩ সালের পর দেশ ডেমোগ্রাফিক সুবিধা হারাতে পারে বলে জানানো হয়। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে দক্ষ জনসম্পদ তৈরির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি। দেশের ৬০টি মেগা প্রজেক্ট রক্ষণাবেক্ষণ করতেও প্রচুর দক্ষ লোকবল প্রয়োজন হবে বলে জনান তিনি।
রাজধানীর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ মিলনায়তনে গতকাল রবিবার দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিযোগিতা’ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এ সময় প্রতিযোগিতার লোগো উন্মোচন করা হয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রথমবারের মতো আয়োজিত প্রতিযোগিতায় দেশের সব জেলা থেকে ১৩টি সেক্টরে ১৭০৭ জন অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করেন। তাদের মধ্য থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে ৮টি বিভাগ থেকে বিজয়ী ৬৬ জন প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করবেন। আগামী ২৯-৩০ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় দক্ষতা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ঢাকার চারটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।
চূড়ান্ত পর্বের বিজয়ীদের মধ্যে যারা কাঙ্ক্ষিত স্কোর অর্জন করবেন তারা আগামী বছরের অক্টোবরে চীনের সাংহাইতে অনুষ্ঠিতব্য ৪৬তম ওয়ার্ল্ড স্কিলস কম্পিটিশন-২০২২ এ অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। পরবর্তীতে চূড়ান্ত পর্বের বিজয়ীদের নিয়ে ছয় মাসব্যাপী গ্রুমিং সেশন অনুষ্ঠিত হবে।
দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে দেশের তরুণ সমাজকে দক্ষতা প্রশিক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। দক্ষতার মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নের কাজকে গতিশীল করা, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নের সেতুবন্ধন তৈরি করা এবং ভবিষ্যতে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় দক্ষতা প্রতিযোগিতায় ১৩টি ভিন্ন ট্রেডে অংশ নেন তরুণরা। ট্রেডগুলো হলো- কন্ট্রাকশন এন্ড বিল্ডিং টেকনোলজি বিভাগে পেইন্টিং অ্যান্ড ডেকোরেটিং এবং প্ল্যান্টারিং অ্যান্ড ড্রাই ওয়াল সিস্টেম; আইসিটি বিভাগে আইটি নেটওয়ার্ক সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ওয়েব টেকনোলজিস, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং সাইবার সিকিউরিটি: ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি বিভাগে ওয়েল্ডিং; এবং সোস্যাল অ্যান্ড পার্সোনাল সার্ভিস বিভাগে বেকারি, কুকিং, পেস্টি অ্যান্ড কনফেকশনারি এবং রেস্টুরেন্ট সার্ভিস।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যুগ্মসচিব ও সদস্য (নিবন্ধন ও সনদায়ন), মো. নূরুল আমিন এবং যুগ্মসচিব ও সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ), ড. মো. জিয়াউদ্দিন। মো. নূরুল আমিন বলেন, আগামীতে দেশে ১ কোটি মানুষ ফ্রিন্যান্স করবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেভাবে কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর আগারগাঁওয়ে বিনিয়োগ ভবন অডিটোরিয়ামে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হবে। বিজয়ীদের মধ্যে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেয়া হবে।
আনন্দবাজার/শহক








