- দিশেহারা বোরো চাষিরা
- কৃষি কর্মকর্তার দেখা মিলছে না
দিগন্ত জোড়া ধানের ক্ষেত। মাঠ ভরা সবুজ ধান। দূর থেকে মনে হবে দু’একটি ক্ষেতে ধান আগাম পেকেছে। কাছে গিয়ে হাত দিলেই চোখ কপালে। লম্বাধানের ছড়ায় ধান সোনলি রং ধরেছে। তবে চাল নেই একটি ধানেও। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের গাড়ারণ গ্রামের হাবিবুর রহমানের ৫ বিঘা জমির দৃশ্য এটি। তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন ক্ষেতে নেকব্লাষ্ট রোগের আক্রমণ করেছে।
হাবিবুর রহমান জানান, তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি ধান চাষ করে থাকেন। চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার বীজ বিক্রয় কেন্দ্র থেকে ব্রি ধান-২৮ জাতের বীজ এনে ৫ বিঘা জমিতে চাষ করেন। ধান রোপনের নির্দেশনা মেনেই যথা সময়ে ধান রোপন করেন তিনি। তাঁর ৫ বিঘা জমিতে শিষ আশা পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৩৬ হাজার ৯শ’ টাকা। ক্ষেতে ধান দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। এ জমি থেকে ধান উৎপাদনের আশা ছিল ১শ’ মণ। যা বিক্রি করে আয় হতো লাখ টাকা। তবে সে আশায় গুড়ে বালি। ধানের প্রতিটি ছড়া শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, গ্রামজুড়ে শত শত বিঘা জমিতে বোরধান চাষ হয়েছে। তবে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকের কোনো খোঁজ খবর রাখেন না। শুধু হাবিবুরের জমি নয়, এ রোগ আশ পাশের জমিতেও ছড়িয়ে পড়ছে।
পটকা গ্রামের ধান চাষি ফরিদ আহাম্মদ জানান, গত কয়েক বছর ধরেই বোর ধানে এ রোগের আক্রমণ করছে। কোনো ক্ষেত সংক্রমিত হলে দু’এক দিনের মধ্যেই পুরো জমির ধান নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নেকব্লাষ্ট রোগ অতি দ্রুত ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ক্ষেত রক্ষা করা সম্ভব হয়না। নেকব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে কৃষকরা বোর ধান চাষে ক্ষতির শিকার হয়ে থাকেন।
শ্রীপুর পৌর শহরের সার-কীটনাশক ব্যবসায়ী কবির হোসেন জানান, উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বোর ধানে এ রোগে সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা শুকনো ধানের গাছ নিয়ে এসে রোগ ও প্রতিকার বিষয়ে জানতে চান। তিনি আরও বলেন ধানে শীষ আসার সময় তিন ধাপে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
উপজেলার উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, কৃষকদেরকে ব্রি-ধান ২৮ রোপনে নিরুৎসাহীত করা হয়। তবুও তারা শোনে না। এ জাতের ধানে নেকব্লাষ্ট রোগের আক্রমণ বেশি হয়ে থাকে। ধানে শীষ আসার আগ মূহুর্তে তিন দফায় ছত্রাক নাশক স্প্রে করলে অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ. এস. এম মুয়ীদুল হাসান জানান, বোরোতে নেকব্লাষ্ট রোগের আক্রমণ হয়ে থাকে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে পরিদর্শন করে থাকেন। তারা কৃষকদের যথাযথ পরমর্শও দেন। কোনো কৃষক কর্মকর্তাদের পরমর্শ না মেনে ধান চাষ করে থাকেন। এজন্য কিছু সমস্যা হয়ে থাকতে পারে।








