তরুণ উদ্যোক্তা শুভ-
- নয় মাসে ৮ লাখ টাকা বিক্রি
গত নয় মাসে ৮ লাখ টাকার মাশরুম বিক্রি
এলএলবি পাস শেষে ২০১৭ সালে ঢাকায় এক আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন সৌমিত্র মজুমদার শুভ। মহামারী করোনার কারণে অন্য সবকিছুর মতো আদালত বন্ধ থাকায় বছর দুই আগে পটুয়াখালীতে ফিরে আসেন শুভ। এলাকায় ফিরে কলাপাড়ায় খালার বাড়িতেই মাশরুম চাষ শুরু করেন তিনি।
মাশরুম চাষে গভীর মনোযোগ আর সঠিক পরিশ্রমের ফলস্বরূপ দ্রুতই সফলতার মুখ দেখতে পান শুভ। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে এক হাজার খড়ের স্পন প্যাকেট। আর এই স্পন থেকে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো মাশরুম বিক্রি করে প্রতি মাসে আয় করছেন প্রায় লাখ টাকা।
পটুয়াখালী জেলায় এই প্রথম বাণিজ্যিক মাশরুম চাষ। প্রথম ধাপেই এসেছে সাফল্য। বর্তমানে শুভর এই সাফল্যের গল্প ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাজুড়ে। তার সাফল্য দেখে এলাকার বহু বেকার যুবক আগ্রহী হচ্ছেন এই পেশায়।
শুভ পটুয়াখালী পৌর শহরের দক্ষিণ কালিকাপুর এলাকার সুশান্ত মজুমদারের ছেলে। বেশ কিছুদিন বেকার থাকার পর জার্মান প্রবাসী খালাতো বোনের পরামর্শে আগ্রহী হন মাশরুম চাষে। পরে সাভারের জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন সেন্টারে দুই মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ গ্রামের খালার বাড়িতে ৫০টি স্পন প্যাকেট দিয়ে শুরু করেন মাশরুম চাষ। ফলন ভালো হওয়ায় ওই বাড়ির ২০ শতাংশ জমিতে দুটি সেডের মাধ্যমে গড়ে তোলেন খামার। তবে সরকারি সহায়তা ও স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা পেলে এ খামার বৃদ্ধির মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন বলে তার বিশ্বাস।
মাশরুম চাষি সৌমিত্র মজুমদার শুভ বলেন, করোনাকালে কোর্ট বন্ধ হয়ে যাবার পরে যখন বেকার হয়ে পড়ি তখন বড় ভাইয়ের পরামর্শে মাশরুম চাষে আগ্রহী হই। এখন অনেকেই এই খামার দেখতে আসেন। অনেকেই প্রচুর আগ্রহ প্রকাশ করছেন মাশরুম চাষ নিয়ে। আমি অবজারভ করে দেখেছি এই এলাকায় মাশরুমের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। যে চাহিদা আমার একার পক্ষে মেটানো সম্ভব নয়। সরকারি সহায়তা পেলে আমি মাশরুম চাষের মাধ্যমে অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবো।
শুভর খালাতো ভাই জীবন বিশ্বাস বলেন, মাশরুম চাষে আগ্রহী হওয়ার পরই শুভকে আমাদের পরিত্যক্ত জমিতে খামার গড়ে তুলতে বলি। সে ২০ শতাংশ জমির ওপর দুটি সেড তৈরি করে মাশরুম চাষ করছে। দেখে বেশ ভালোই লাগছে। খামার আরো বড় করতে পারলে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করার আশা তার।
শুভর জার্মান প্রবাসী খালাতো বোন রত্না বিশ্বাস বলেন, মানুষ কোনো উদ্যোগ নিতে গেলে তাকে দিতে হবে মানসিক সাপোর্ট আর আমি শুভকে দিয়েছি সেই সাপোর্ট। সরকারি সহযোগিতা পেলে শুভর এই মাশরুম চাষের প্রকল্প আরো বড় করতে পারবে বলে আমি মনে করি।
কৃষিস্ম্প্রসারণ অধিদপ্তর পটুয়াখালীর উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের দেশের মানুষ মাশরুমের গুণ সম্পর্কে তেমন একটা জানেন না। মাশরুম সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন এটা একটা ব্যাঙের ছাতা, বিষাক্ত জাতীয় কিছু। অথচ এটা পুষ্টিকর খাবার। এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি।
বর্তমানে খামার থেকে প্রতিনিয়ত ১৫ কেজি করে মাশরুম পাচ্ছেন শুভ। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ কেজির মতো অর্ডার আসে। তবে বেশির ভাগ অর্ডার অনলাইনেই আসে। গত নয় মাসে শুভ ৮ লাখ টাকার মাশরুম বিক্রি করেছেন।








