- নদীতে আকস্মিক পানি বৃদ্ধি
অতিরিক্ত উষ্ণতা, দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীনতার কারণে কৃষকের পানি সেচের খরচ প্রথম থেকেই ছিলো অনেক বেশি। এর মধ্যে ব্রি-ধান ২৮ যারা করেছে তার বেশির ভাগ ধানের জমিই আক্রান্ত হয়েছিল ব্লাষ্টরোগে। হতাশাগ্রস্ত চাষিরা সেই শোককাটিয়ে উঠতে না উঠতেই গত ১১ এপ্রিল শেষ রাতে কালবৈশাখী ঝড় ও অতিরিক্ত শিলাবৃষ্টির কারণে একেবারে ভেঙ্গে পড়ে। পাকা ধান ঘরে উঠানোর সময়ে আকস্মিক নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকেরা আবারও মহাবিপাকে পড়ে। গত কয়েকদিন ধরে সিলেট সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ের পানিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে নদীর পানি। ঝুঁকিতে পড়েছে হবিগঞ্জ জেলার লাখাই, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর, কিশোরগঞ্জ জেলাসহ ভাটি এলাকার ধানের জমি। নাসিরনগর উপজেলার অপেক্ষাকৃত নিম্ন জায়গার অনেক জমি দুই থেকে আড়াই ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এদিকে হবিগঞ্জ জেলার অলিপুর, রতনপুরের অনেক মিল ফ্যাক্টরির বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ পানির সঙ্গে মিশে আছে। যার কারণে কৃষকের শরীরে চুলকানীসহ নানাবিধ চর্ম রোগের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। দেশিয় মাছের প্রজনন মৌসুমে কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি প্রজননে বাধাগ্রস্ত করবে বলে বিশেষজ্ঞ একজন মতামত দিয়েছেন।
জানা যায়, যাদের অনেক জমি আছে তারা অনেকেই কৃষি কাজ করতে চায়না। কৃষি কাজে ঝুঁকি, অতিরিক্ত খরচের জন্য তারা কিছু জমি পতিত রাখে এবং বাকি জমিগুলো বর্গা চাষিদের দিয়ে দেয়। বেশির ভাগ বর্গা চাষিরা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে জমি চাষ করে। মহাজনদের ঋণ পরিশোধ করবে না বছরের জন্য তাদের খোরাক নিশ্চিত করবে এ নিয়ে সংশয়ে ভুগছেন কৃষক। প্রায় প্রতিটি কৃষকের চোখে এখন হতাশার জল।








