মাসিকের দিনগুলোতে বাজারে প্রচলিত শোষক জেল এবং সুগন্ধি সমৃদ্ধ স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে ‘অস্বস্তি’ হওয়ায় এর বিকল্পখোঁজার কথা ভাবছেন কর্মজীবী নারীদের অনেকেই।
তারা জানান, নারীর কর্ম পরিসর বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি মাসিক ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যসম্মত, টেকসই ও সুলভ উপকরণ বের করতে অনেক গবেষণার দরকার রয়েছে।
স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কি না এ ব্যাপারে বাংলাদেশে কোনো কার্যকর গবেষণা নেই। বিদেশের গবেষণায় স্বাস্থ্যগত ক্ষতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না মিললেও এতে ব্যবহৃত অনেক উপাদানে স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা এসেছে।
নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরাম নামে একটি বেসরকারি সংগঠনের এক মুখপাত্র জানান, “বাজারে যেসব স্যানিটারি প্যাড মিলে, তাতে শরীরের জন্য ক্ষতিকর শোষক জেল ও সুগন্ধি রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।”
মিরপুরে এক সুপার স্টোরে স্যানিটারি প্যাড কিনতে আসা এক কর্মজীবী নারী জানান, তিনি সাধারণত বিদেশি একটি ব্র্যান্ডের তুলার স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করেন। তবে মহামারীর ফলে সরবরাহ না থাকায় তাকে দেশি ব্র্যান্ড ব্যবহার করতে হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, “দেশি স্যানিটারি প্যাডে জেল ও আঠালো উপাদানের কারণে খুব অস্বস্তি বোধ করি। বিভিন্ন দেশি ব্র্যান্ড প্যাডে এমন উগ্র সুগন্ধি ব্যবহার করে যে তাতে খুব খারাপ লাগে।”
পাঁচ টাকার কয়েন দিয়ে স্যানিটারি প্যাড কেনার সুবিধা দিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি অনুষদ ও শেখ হাসিনা হলে গত ফেব্রুয়ারিতে ভেন্ডিং মেশিন বসানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, “এর শোষণ ক্ষমতা তিন-চার ঘণ্টার জন্য ঠিক আছে। লং টার্মের জন্য এই প্যাড কার্যকরী না।”
বাংলাদেশের পণ্যের মান নির্ধারণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই জানিয়েছে, দেশের বাজারে প্রচলিত স্যানিটারি ন্যাপকিনের মান নিয়ে কোনো সমস্যা এখনও তারা পাননি।
প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেছেন, “আমাদের বিএসটিআইয়ে স্যানিটারি প্যাডের জন্য একটা স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে; তাতে কী কী উপাদান ব্যবহার করা যায় উল্লেখ রয়েছে। আমাদের কাছে এসে কেউ অভিযোগ করেনি যে, কোনো শারীরিক সমস্যা হচ্ছে।”
তিনি জানান, “আমরা সরকারিভাবে এটাইতো (স্যানিটারি প্যাড) আগে দিতে পারিনি। এখন শুরু করেছি। “এখন হাইজিন মেইনটেইন করতে গিয়ে যদি অন্য কোনো শারীরিক অসুবিধা হয়ে থাকে, তাহলে সেটাও নজরে আনা প্রয়োজন। আধুনিক অপশন থাকলে সেগুলো আমরা অবশ্যই দেখব আমাদের প্রোগামে।”
কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ফ্যামিলি প্ল্যানিং- ফিল্ড সার্ভিস ডেলিভারি বিভাগের ন্যাশনাল কো-অরডিনেটর খালেদা ইয়াসমিন জানান, স্যানিটারি ন্যাপকিন ৬ ঘণ্টার বেশি পরে থাকা স্বাস্থ্যসম্মত নয়।
বাংলাদেশের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশে এখন ৩০-৪০ শতাংশ নারী স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করে; বাকিরা এখনও পর্যন্ত কাপড়ই ব্যবহার করে আসেছে।”
২০১৪ সালের বাংলাদেশ ন্যাশনাল হাইজিন বেইজলাইন সার্ভে অনুসারে, স্কুলে পড়া মেয়েদের মাত্র ১০ শতাংশ স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করে থাকে।
খালেদা ইয়াসমিন জানান, যেসব উপাদান দিয়ে স্যানিটারি প্যাড বানানো হচ্ছে, তা অনুমোদিত হতে হবে। কোনটি কতটুকু উপযোগী বা ক্ষতিকর তা নিয়ে আরো গবেষণার জায়গা আছে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর, বি) একদল বিজ্ঞানী স্কুলের মেয়েদের নিয়ে এ ব্যাপারে কাজ করেছিলেন। তারা জানতে চেয়েছিলেন, কী ধরনের প্যাড মেয়েরা ব্যবহার করতে চায়।
ওই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন আইসিডিডিআর, বির এনভায়রনমেন্টাল ইন্টারভেনশন্স ইউনিটের সহকারী বিজ্ঞানি ফারহানা সুলতানা। তিনি জানান, স্যানিটারি প্যাড নিয়ে ওদের নেগেটিভ ফিডব্যাক ছিল, এটা র্যাশ-ইচিং করে।”
স্যানিটারি ন্যাপকিনের ‘বিকল্প’ হিসেবে সিলিকনের তৈরি ‘মেন্সট্রুয়াল কাপ’ ব্যবহারের জন্য প্রচার চালাচ্ছেন এনজিওকর্মী নাহিদ দিপা।
তিনি জানান, মেন্সট্রুয়াল কাপ পরে আমার পরিচিত একজন ২০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়েছেন, প্যাড হলে এটা সহজে সম্ভব নয়।
আনন্দবাজার/এফআইবি








