- ইউরোপের সর্ববৃহৎ পারমাণবিক কেন্দ্র
- ইউক্রেনকে সরবরাহ করে ২৫ ভাগ বিদ্যুৎ
একে একে ধসে যাচ্ছে বিশাল আবাসিক ভবন, শিশুদের স্কুল। গৃহহারা মানুষের আজানা গন্তব্যে পাড়ি দেয়া আর বেসামরিক মানুষের বেওয়ারিশ লাশ। যুদ্ধের চিরচেনা দৃশ্যপটেই চলছে ইউক্রেন-রাশিয়ার অসম শক্তির চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ। এক সময়ের পরমাণু বোমার অধিকারী দেশ ইউক্রেন তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে লড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে একের পর এক অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার বাড়াচ্ছে রাশিয়া।
এর মধ্যেই ইউক্রেনের জেপোরোজিয়া পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র দখলে নিয়েছে রাশিয়া। তীব্র লড়াইয়ের পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রুশ সেনারা দখলে নেয় বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ। এই পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরো ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বড়। ইউক্রেনের দক্ষিণে নাইপার নদীর তীরে অবস্থিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে দেশটির বিদ্যুৎ চাহিদার এক-চতুর্থাংশ উৎপাদিত হয়।
এর আগে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ভবনে রাশিয়ার বোমা হামলায় সেখানে আগুন ধরে যায়। রাশিয়ার দখলে যাওয়ার পর কর্মীরা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তারা আরও জানিয়েছে, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিদ্যুৎ ইউনিটগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মুখপাত্র আন্দ্রি টুজ ইউক্রেনীয় টেলিভিশনকে বলেন, গোলা সরাসরি জাপোরিঝিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে এসে পড়ে। এতে কেন্দ্রের ছয়টি চুল্লির মধ্যে একটিতে আগুন ধরে যায়। ওই চুল্লিটি কাজ না করলেও এর ভেতর পারমাণবিক জ্বালানি রয়েছে।
আগুন লাগার পর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছিল, তারা ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এবং জানতে পেরেছেন যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির অপরিহার্য অংশগুলো এখনও চলমান আছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটনার সময়ে দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় বসেছিল ইউক্রেন ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা। সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষিত জায়গায় পাঠাতে 'মানবিক করিডর' তৈরি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সেই বৈঠকে।
এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লাগার খবরে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী জেনিফার গ্রানহোম টুইটারে লেখেন, , পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে রাশিয়ার সামরিক অভিযান অত্যন্ত বেপরোয়া পদক্ষেপ এবং এটি শেষ হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, মার্কিন পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বাড়ছে ধ্বংসযজ্ঞ
সর্বাত্মক হামলা শুরুর পর এই এক সপ্তাহেই পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির বহু শহর কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। সামরিক অবকাঠামোর বাইরে রাশিয়ার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে আবাসিক ভবন, স্কুল ও হাসপাতাল। আর তাই জীবন বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি ইউক্রেনীয়।
এদিকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় মারিউপল শহর অবরুদ্ধ করে রেখেছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। একইসঙ্গে শহরটিতে বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে রুশ সেনারা। এছাড়া শহরটিতে বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পাশাপাশি খাবার সরবরাহও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মারিউপল শহরের মেয়র ভাদিম বয়চেঙ্কো বলেছেন, শহরটি অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি, খাবার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে তারা। গত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শহরটি অবরুদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি অব্যাহত ভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিদের হাতে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লেনিনগ্রাদ অবরোধের কথা উল্লেখ করে ভাদিম বয়চেঙ্কো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘লেনিনগ্রাদের মতো করে এখানে তারা অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে।’
নাৎসিদের হাতে রুশ শহর লেনিনগ্রাদ অবরোধের কারণে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। মারিউপল শহরের মেয়র আরও বলেন, ‘রুশ সৈন্যরা আমাদের রেল সংযোগও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে যেন আমরা নারী, শিশু এবং বয়স্ক নাগরিকদের সরিয়ে নিতে না পারি।’








