অস্ট্রেলিয়ায় কয়েকমাস ধরে চলা ভয়াবহ দাবানলে নিষ্প্রাণ বন্যপশুপ্রাণিসহ সাধারন মানুষ। এই কঠিন অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে গতকাল রোববার অ্যাডিলেডের বোনিথন পার্কে নামাজের আয়োজন করেছিল স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। সেখানে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষরাও। খবর খালিজ টাইমস, ডেইলি মেইল।
খবরে জানানো হয়েছে, একদল মুসলিম দাবানল সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে জমায়েত হয়েছিলেন ওই পার্কে। প্রায় অর্ধশতাধিক পুরুষ, নারী এবং শিশু জড়ো হয়ে নামাজ আদায় করে হাত তুলে বৃষ্টির জন্য দোয়া করেন।
এদিকে ‘সেন্টার ফর খ্রিস্টান এবং মুসলিম রিলেশনস’ এর পক্ষ থেকে এই প্রার্থনায় যোগ দিয়েছিলে পাদ্রী প্যাটরিক ম্যাকনেরনি। তিনি জানান, ‘ আজকে আমি আমার মুসলিম ভাইবোনদের সঙ্গে বৃষ্টির জন্য এই প্রার্থনায় যোগ দিয়েছি। আমার বন্ধু প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এই নামাজের খুতবা দিয়েছেন। তিনি খুতবায় সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন ও তওবার ওপর জোর দিয়েছেন।’
গত শনিবার দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ক্যাঙ্গারু দ্বীপে ডিক ল্যাং নামে ৭৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ এবং ৪৩ বছর বয়সী তার ছেলে ভয়াবহ দাবানলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এরপরদিনই বৃষ্টির জন্য এই প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। বাড়ি রক্ষা করতে যেয়ে আগুনের ফাঁদে পড়ে আর ফিরতে পারেননি তারা। তাদের এই করুণ মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায়।
এদিকে এই নামাজের দিন প্রার্থনারত অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ায় আকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখাও মিলেছে। গতকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে তাপমাত্রাও কিছুটা কমেছে। তবে দেশটির আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে আবারো তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছে, নিউ সাউথ ওয়েলসের পূর্বাঞ্চলের সিডনি থেকে মেলবোর্ন পর্যন্ত হালকা বৃষ্টিপাতের দেখা মিলেছে। এর মধ্যে কয়েকটি স্থানে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য ভাবে যেসব স্থানে আগুন জ্বলছে সেগুলো কিছু কিছু অংশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া নিউ সাউথ ওয়েলস ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র মার্টি ওয়েববার সতর্ক করে জানিয়েছেন, ‘আমরা এখনো শঙ্কামুক্ত নই; কিন্তু বিভিন্ন স্থানে লাগা আগুনগুলো কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। এটা আমাদের অগ্নি নির্বাপন কাজে সহায়তা করেছে।’
আনন্দবাজার/শাহী








