গত বছর বিশ্বের অর্ধেক মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার উৎপাদন করেছে চীন। আমেরিকা উৎপাদন করেছে মাত্র ৭ শতাংশ। আমেরিকা একটি সোলার প্যানেল বানালে চীন বানায় ৭০টি। আমেরিকার তুলনায় চীনে বৈদ্যুতিক বাহনের বিক্রি চারগুণ বেশি, ফাইভজি বেজ স্টেশন নয়গুণ বেশি। আর আমেরিকার তুলনায় চীনের নেটওয়ার্ক স্পিড ৫গুণ বেশি।
প্রযুক্তিতে এভাবে একের পর এক বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করছে চীন। তাইতো প্রযুক্তিখাতের বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় দেশটিকে। ২১ শতাব্দীর সমস্ত অতিপ্রয়োজনীয় প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, ফাইভজি ওয়্যারলেস, কোয়ান্টাম তথ্যবিজ্ঞান, বায়োটেকনোলজি ও সবুজ জ্বালানি অচিরেই বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে চীন।
আগামী দিনে অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে যে প্রযুক্তি, সেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষেত্রে চীন ইতিমধ্যেই আমেরিকার চেয়ে এগিয়ে গেছে। ২০২১ সালের এক মার্কিন প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, ২০৩০ সাল নাগাদ আমেরিকাকে পেছনে ফেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় শীর্ষস্থান দখল করে নেবে চীন। হার্ভার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইয়ের ব্যবহারিক প্রয়োগে ফেসিয়াল ও ভয়েস রিকগনিশন চীন ইতিমধ্যেই আমেরিকার চেয়ে এগিয়ে।
ফাইভজিতেও আমেরিকার চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে চীন। আমেরিকা যেখানে ফাইভজির জন্য দেশজুড়ে ১ লাখ বেজ স্টেশন স্থাপন করেছে, সেখানে চীন স্থাপন করেছে সাড়ে ৯ লাখ স্টেশন। চীনে বর্তমানে ১৫ কোটি মানুষ ৫জি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে, যার গড় গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩০০ মেগাবিট। অন্যদিকে আমেরিকায় মাত্র ৬ কোটি মানুষ ৫জি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। সেগুলোর গতিও চীনের তুলনায় অনেক কম প্রতি সেকেন্ডে মাত্র ৬০ মেগাবিট।
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে গত অর্ধশতাব্দী ধরে এগিয়ে রয়েছে আমেরিকা। তবে চীন এই শিল্পে অতি শীঘ্রই দুটো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আমেরিকাকে ধরে ফেলতে পারে সেমিকন্ডাক্টর তৈরি ও চিপ ডিজাইন। ইতোমধ্যে আমেরিকার চেয়ে বেশি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন করছে চীন। বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ১৫ শতাংশ হয় চীনে, ১৯৯০ সালে যা ছিল ১ শতাংশেরও কম। অন্যদিকে আমেরিকা বিশ্বের মোট সেমিকন্ডাক্টরের ১২ শতাংশ উৎপাদন করে, ১৯৯০ সালে যা ছিল ৩৭ শতাংশ।
হার্ভার্ডের বেলফার সেন্টারের 'গ্রেট টেকনোলজিক্যাল রাইভালরি' শীর্ষক এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে প্রযুক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে রয়েছে চীন। শেষ হাসিটা চীনই হাসবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিতে চীন অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। ২১ শতাব্দীর সমস্ত অতিপ্রয়োজনীয় প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, ফাইভজি ওয়্যারলেস, কোয়ান্টাম তথ্যবিজ্ঞান, বায়োটেকনোলজি ও সবুজ জ্বালানি অচিরেই বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে চীন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেশটি ইতিমধ্যে নেতৃত্ব দিচ্ছেই।
আনন্দবাজার/শহক








