কুমিল্লায় ৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ২৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকার গোপনকৃত বিক্রয় হিসাব উদঘাটন করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর। এতে সরকারের ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি প্রমান মিলে। ৩ মাস তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার ভ্যাট আইনে মামলা দায়ের করা হয়। বিকেলে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- কিষোয়ান স্নাকস্ লিমিটেড, বনফুল এন্ড কোং এবং ফরিদ ফাইভার এন্ড উইভিং লিমিটেড। এদের মধ্যে কিষোয়ান স্নাকস্ প্রতিষ্ঠানটি সোয়াগাজী ভাটপাড়ায় অবস্থিত। মূসক নিবন্ধন নম্বর ০০০২৯৮৭১৩-০৬০১। বনফুল এন্ড কোং প্রতিষ্ঠানটির কারখানা সদর দক্ষিণ ভাটপাড়া অবিস্থত। মূসক নিবন্ধন নম্বর ০০০১৭১৩২২০৬০১। অন্যটি ফরিদ ফাইভার এন্ড উইভিং প্রতিষ্ঠানটি বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত। মূসক নিবন্ধন নম্বর ০০০০৭১০১২-০৬০১।
মইনুল খান বলেন, কিষোয়ান স্নাকস্ ও বনফুল প্রতিষ্ঠান দুটি মিষ্টি ও বেকারী পণ্য উৎপাদন করে সারাদেশে সরবরাহ করে এবং একই মালিকানাধীন। এছাড়া ফরিদ ফাইভার এন্ড উইভিং প্রতিষ্ঠানটি সামুদ্রিক জাল ও রশ্মি উৎপাদন করে। ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যাট গোয়েন্দার উপ-পরিচালক জনাব মুনাওয়ার মুরসালীনের নেতৃত্বে এক দল চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি ৩টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়। এতে ভ্যাট গোয়েন্দারা ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকির আলামত সংগ্রহ করে।
অভিযানের শুরুতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ মূসক সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রদর্শন করে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত কম্পিউটাসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক দলিলাদি তল্লাশি করে বাণিজ্যিক বিক্রয় চালান সহ বিক্রয় রেজিস্টার জব্দ করা হয়। ভ্যাট গোয়েন্দার তদন্তে কিষোয়ান স্নাকস্ প্রতিষ্ঠানটির ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পযর্ন্ত ৫ শতাংশ হারে পণ্যের অপ্রদর্শিত বিক্রয়ের মূসক আরোপযোগ্য মূল্য ছিল ১৪ কোটি ৭৬ লাখ ১ হাজার ২৯ টাকা। যার উপর প্রযোজ্য মূসক ৭৩ লাখ ৮০ হাজার ৫২ টাকা। এছাড়া ১৫ শতাংশ হারে পণ্যের অপ্রদর্শিত বিক্রয়ের মূসক আরোপযোগ্য মূল্য ৫ কোটি ৮২ লাখ ৮৮ হাজার ৮৩৪ টাকা। যার উপর প্রযোজ্য মূসক ৮৭ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৫ টাকা। তদন্ত মেয়াদে সর্বমোট অপ্রদর্শিত মূসক ১ কোটি ৬১ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৬ টাকা। ভ্যাট যথাসময়ে পরিশোধ না করায় ভ্যাট আইন অনুযায়ী মাসিক ২ শতাংশ হারে ৯৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৩৭ টাকা সুদ প্রযোজ্য।
বনফুল এন্ড কোং প্রতিষ্ঠানটির ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে স০২১ সালের ডিসেম্বর পযর্ন্ত জব্দকৃত দলিলাদি অনুযায়ী বিক্রয় পাওয়া যায় ৬ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার ৬৫৪ টাকা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি দাখিলপত্রে ৩ কোটি ৩১ লাখ ২৮ হাজার ৬২৫ টাকা বিক্রয়মূল্য প্রদর্শন করে। এক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানটি দাখিলপত্রে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার ২৯ টাকা কম বিক্রয়মূল্য প্রদর্শন করে। যার উপর প্রযোজ্য মূসক ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ৯৬০ টাকা। ভ্যাট যথাসময়ে পরিশোধ না করায় ভ্যাট আইন অনুযায়ী মাসিক ২ শতাংশ হারে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭১৬ টাকা সুদ প্রযোজ্য।
এছাড়া ফরিদ ফাইভার এন্ড উইভিং প্রতিষ্ঠানটির ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পযর্ন্ত জব্দকৃত দলিলাদি অনুযায়ী বিক্রয় পাওয়া যায় ৩৯ কোটি ৭০ লাখ ৬৭ হাজার ৬২১ টাকা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি দাখিলপত্রে ৩১ কোটি ৮৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৪৬ টাকা বিক্রয়মূল্য প্রদর্শন করে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি দাখিলপত্রে ৭ কোটি ৮৩ লাখ ৪০ হাজার ২৭৫ টাকা কম বিক্রয়মূল্য প্রদর্শন করে। যার উপর প্রযোজ্য মূসক ১ কোটি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯৭ টাকা। ভ্যাট যথাসময়ে পরিশোধ না করায় ভ্যাট আইন অনুযায়ী মাসে ২ শতাংশ হারে ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৯৫৩ টাকা সুদ প্রযোজ্য।
এই ৩টি প্রতিষ্ঠানে মূসক ৩ কোটি ৫ লাখ ১০ হাজার ৬৩৩ টাকা এবং সুদবাবদ ১ কোটি ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬ টাকাসহ মোট ৪ কোটি ১৫ লাখ ৩ হাজার ৬৩৯ টাকার ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে। অভিযানে প্রাপ্ত কাগজ-পত্র ও অন্যান্য তথ্যাদি যাচাই করে ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদি পাওয়া যায়। ৩ মাস তদন্ত করে প্রতিষ্ঠান ৩টির বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার ভ্যাট আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে উদঘাটিত পরিহারকৃত ভ্যাট আদায়ের আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে মামলা ৩টি সংশ্লিষ্ট কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেট প্রেরণ করা হয়। একইসাথে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরো মনিটরিং করার জন্যও সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারকে অনুরোধ করা হয়।
আনন্দবাজার/শহক








