করোনার প্রভাবে পাইকারী ও খুচরা বাজারে কমেছে মুরগি ও ডিমের দাম। এতে বিপাকে পড়েছে নীলফামারী জেলার হাজার হাজার খামারী। দেশে অঘোষিত লকডাউনের কারণে এমনটাই হয়েছে বলে বলে অভিযোগ খামারীদের।
জেলা প্রাণী সম্পদ সুত্র জানায়, জেলায় ১ হাজার ৫৬৬ মুরগির খামার রয়েছে। এর মধ্যে সোনালী মুরগির খামার রয়েছে ৪৬৭, লেয়ার ৪৪৫, ব্রয়লারের খামার রয়েছে, ৫৭৮ ও দেশি মুরগির ৭৬ টি।
জেলা শহরের নিউবাবু পাড়ার জীবন পোল্ট্রি ফার্মের মালিক জীবন মিয়া জানান, এক মাসের ব্যবধানে সব ধরনের মুরগির দাম প্রতি কেজিতে ৩০-৪০ টাকা ও ডিমের দাম প্রতি হালিতে ১২ টাকা কমেছে। করোনা আশার আগে ৩৬ টাকা প্রতি হালি ডিম বিক্রি হয়েছে। এখন ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৪ টাকা হালি। সোনালী মুরগী ২১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এ জাতের মুরগী এখন ১৬০-১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগীর কেজি প্রতি ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১১০ কেজিতে। কেজি প্রতি ৪০-৫০ টাকা লোকশান গুনতে হচ্ছে।
জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের চড়চড়াবাড়ী গ্রামের খামারী আফজালুল হক বিপ্লব জানান, আমার খামারে প্রায় ১২ হাজার মুরগি রয়েছে। করোনা সংক্রমন রোধে দেশে সব ধরনের যানবাহন বন্ধ থাকায় বাজারে ডিম ও মুরগির বাজার নিন্মমুখি, এতে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। সরকারী ভাবে আর্থিক প্রণোদনা পেলে সংকট কেটে উঠা যাবে বলে মনে করেন তিনি।
পরিবেশক ইকবাল আহমেদ জানান, করোনা আতংকে খামারীদের জেলায় শতকরা ৮০ ভাগ মুরগির খামার বন্ধের পথে। করোনার প্রভাবে বর্তমানে পোল্ট্রি শিল্প মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। খামারে মুরগির ডিম আসছে কিন্ত বিক্রি হচ্ছে না সব মিলিয়ে খামারিরা বিপাকে পড়েছে। সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষনা করায় খামারিদের হয়তো কিছুটা উপকার হবে।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.মোনাক্কা আলী জানান, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সরবারহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় খামারিরা তাদের উৎপাদিত মুরগি ও ডিমের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ জন্য করোনা সংকটে সরকার খামারীদের বিশেষ প্রণোদনার ঘোষনা দিয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ে খামারীদের তালিকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত তাদের সমস্যা সমাধান হবে।
আনন্দবাজার/শহক/ সুভাষ








