ইউক্রেনে রকেট হামলা---------------
- ক্ষতি প্রায় ১৯৬ কোটি টাকার
- ২৮ নাবিককে দেশে ফেরত
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রকেট হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজ। মারা গেছেন জাহাজের ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান। এ জন্য সাধারণ বিমা করপোরেশনের (এসবিসির) কাছে ১৯৫ কোটি ৬০ লাখ ১২ হাজার টাকা বিমা দাবির আবেদন করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসইসি)।
এ বিষয়ে বিএসসি চেয়ারম্যান ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশীয়-আন্তর্জাতিক সব আইন-কানুন অনুসরণ করে বিমা দাবি পরিশোধের আবেদন করা হয়েছে। বিমা কোম্পানি বিষয়টি যাচাই করে দাবি পরিশোধ করবে।
বিষয়টি জানতে সাধারণ বিমা করপোরেশনের এমডি সৈয়দ শাহরিয়ার আহসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। পরে এমডির একান্ত সচিব সামসুদ্দিন আরেফিন বলেন, এমডি স্যার সকাল থেকে বোর্ড মিটিংয়ে আছেন। তিনি অনেক ব্যস্ত সময় পার করছেন, এখন কথা বলতে পারছেন না।
২০১৮ সালে চীন থেকে ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ নামের জাহাজটি কেনা হয় ২০৮ কোটি টাকায়। এর সঙ্গে আরও পাঁচটি জাহাজ কেনে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। মোট ছয়টি জাহাজ কিনতে চীন সরকার ২০ বছর মেয়াদি দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেয় বিএসসি কর্তৃপক্ষকে। ছয়টি জাহাজের মধ্যে তিনটি অয়েল ট্যাংকার এবং তিনটি বাল্ক ক্যারিয়ার। আর এই বাল্ক ক্যারিয়ারগুলোর একটি হলো বাংলার সমৃদ্ধি। জাহাজটি ডেনমার্কের চার্টারার ডেল্টা করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ভাড়ায় চলছিল।
বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজটি চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি মুম্বাই বন্দর থেকে রওনা হয়ে তুরস্কের ইরেগলিতে যায়। সেখান থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের ওলভিয়া বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি ইউক্রেনের ওলভিয়া বন্দরের আউটার অ্যাংকরেজে ছিল। পরদিন ইনার অ্যাংকরেজে নিয়ে যাওয়া হয়। এই বন্দর থেকে সিমেন্ট ক্লে নিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি ইতালির রেভেনা বন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল বাংলার সমৃদ্ধির। সেদিন ভোরে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর কৃষ্ণ সাগরের খাঁড়ির ৫০ কিলোমিটারের মতো ভেতরে মিকোলায়েভ শহরের ওলভিয়া বন্দরে আটকে পড়ে জাহাজটি।
এরপর যুদ্ধ চলার মধ্যে ২ মার্চ বুধবার একটি রকেটের আঘাত হয় বাংলার সমৃদ্ধির ওপর। হামলায় জাহাজটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মারা যান জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান। জাহাজের মূল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (নেভিগেশন ব্রিজ) পুরোপুরি বিধ্বস্ত এবং প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বেঁচে থাকা ২৮ নাবিককে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা ১ মিনিটে তার্কিশ এয়ারের একটি ফ্লাইটে ২৮ নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।








