দেশে চতুর্থ শিল্প নিয়ে আলোচনা হলেও এদেশের মৌলিক বিপ্লব কৃষি বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। তিনি বলেন, বাঙালি জাতির উত্তরণের পথে, আধুনিতকার পথে প্রথম সোপান হলো কৃষি। কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমেই বর্তমান সমাজের দিকে আমরা এগিয়েছি।’
হাওর অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি বেসরকারি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। গতকাল বুধবার খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জার্মানসংস্থা ডব্লিওএইচএইচ এবং ফ্রেন্ডস ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ যৌথভাবে এ প্রকল্প উদ্বোধন করে।
প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক মামুনুর রশিদ। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ জেলার ৩টি উপজেলার ১০০ গ্রামে ২০ হাজার কৃষকদের নিয়ে জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষিপদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হবে। পরিবেশবান্ধব টেকসই কৃষির অনুশীলনের জন্য প্রকল্প এলাকার ৫০ স্থানে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তাছাড়া ভোক্তাদের সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচানা করা হবে বলেও জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, হাওরের জীবনযাপনের সাথে আমি পরিচিত। আমরা কৃষি বা গ্রামের প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেই। তবে গ্রামে গেলে অনেক সময় কৃষির কর্মকর্তাদের সপ্তাহেন পর সপ্তাহ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন মন্ত্রী। এনজিও কর্মীদের মাঠে পাওয়া যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। হাওরের খাস জমিতে দরিদ্র মানুষ হাত দিতে না পারলেও তা ইজারা দেয়া হয় বলে জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেনজির আলম বলেন, চালের উৎপাদন বেড়েছে। তবে এখন বছরে ১৮ লাখ মেট্রিকটন চাল পল্ট্রিতে ব্যবহার হলেও এসব হিসাবে আসছে না। কৃষি আধুনিকায়ন না করণে আগামীতে কৃষিকে ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কারণ তরুণরা কৃষিতে আকৃষ্ট না হওয়ায় প্রতিনিয়ত এখাতে শ্রমিকের সংখ্যা কমছে। বর্তমানে কৃষকদের গড় বয়স ৫৪ বছর। ১০ বছর পর কৃষিতে মাত্র ৩০ ভাগ মানুষ জড়িত থাকবে। তাই উৎপাদন বাড়াতে আধুনিকায়নে জোর দেন তিনি।
আনন্দবাজার/শহক








