ড্যানিশ ফুডসের ৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি
প্রকাশ:

বিস্তারিত
পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ডেনিশ ফুডসের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর। তদন্তে শেষে ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ায় কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা। গত মঙ্গলবার ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডেনিশ ফুডসের অফিস রাজধানীর তেজগাঁওয়ের শান্তা ওয়েস্টার্ন টাওয়ারের ১৩ তলায়। যার মূসক নিবন্ধন নাম্বার ০০০০০১৫৬১-০৩০। কোম্পানিটি কারখানা নারায়নগঞ্জের শিমরাইলের অবস্থিত। ভ্যাট গোয়েন্দার সহকারী পরিচালক আলমগীর হুসেনের নেতৃত্বে এক দল প্রতিষ্ঠানটির জুলাই ২০১৭ সাল হতে জুন ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়কালের কার্যক্রম তদন্ত করে।
মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, আলমগীর হুসেনের নেতৃত্বে তদন্তকালে ডেনিশ ফুডস কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলাদি, প্রতিষ্ঠানটির মূসক পরিশোধ সংক্রান্ত ট্রেজারি চালান, দাখিলপত্র যাচাই করে মূসক আইনের বিদ্যমান বিধান, সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন ও সাধারণ আদেশ অনুসরন করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত মেয়াদে বিভিন্ন সেবা খাতের বিপরীতে উৎসে মূসক বাবদ ১২ লাখ ৬ হাজার টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ৩১ লাখ ৭৯ হাজার ২৭২ টাকা। এতে অপরিশোধিত ভ্যাট ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ২৭২ টাকার ফাঁকি উৎঘাটন করা হয়। ওই ফাঁকির উপর ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক ২ শতাংশ হারে ২ লাখ ৩২ হাজার ৮৪৬ টাকা বিলম্বজনিত সুদ হিসেবে প্রযোজ্য হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী তদন্ত মেয়াদে বিজ্ঞাপনের বর্ধিত মূল্যের ওপর অতিরিক্ত রেয়াত, চায়ের জন্য টি পেপার ক্রয়ে অতিরিক্ত গৃহীত রেয়াত, টি বক্সের বর্ধিত মূল্যের উপর অতিরিক্ত গৃহীত রেয়াত, বাটারের বর্ধিত মূল্যের উপর অতিরিক্ত গৃহীত রেয়াত, ওয়েলফারে ব্যবহৃত কার্টনের বর্ধিত মূল্যের উপর অতিরিক্ত গৃহীত রেয়াত, নুডলসে ব্যবহৃত সিজনিং পাউডারের বর্ধিত মূল্যের উপর অতিরিক্ত গৃহীত রেয়াত, গ্যাস ও সিএন্ডএফ এর বর্ধিত মূল্যের উপর অতিরিক্ত গৃহীত রেয়াত, নুডলসে ব্যবহৃত কার্টনের বর্ধিত মূল্যের উপর অতিরিক্ত গৃহীত রেয়াতসহ মোট ৬৪ লাখ ২১ হাজার ৮০৬ টাকা ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তদন্ত মেয়াদে উল্লিখিত খ্যাত সমুহে ৬৪ লাখ ২১ হাজার ৮০৬ টাকা পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে ৬৪ লাখ ২১ হাজার ৮০৬ টাকা আদায়যোগ্য।
এছাড়া ৭ দশমিক ৫ শতাংশ উপকরণ মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সংশোধিত মূল্য ঘোষণা না দেয়ায় বর্ধিত মূল্যের উপর গৃহীত রেয়াত কর্তন ৩ কোটি ৭০ লাখ ৮১ হাজার ১৩৮ টাকা প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ১ কোটি ১১ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৪ টাকা সমন্বয় করায় অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ২ কোটি ৫৯ লাখ ৬২ হাজার ৪৮৪ টাকা আদায়যোগ্য। বর্ণিত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির মোট অপরিশোধিত ভ্যাটের পরিমাণ ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬২ টাকা এবং সুদ ২ লাখ ৩২ হাজার ৮৪৬ টাকা সহ মোট ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৯০ হাজার ৪০৮ টাকা পরিহারের তথ্য উদঘাটিত হয়। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অপরিশোধিত ভ্যাটের অভিযোগ মেনে নিয়ে স্বেচ্ছায় ও স্বপ্রণোদিত হয়ে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৯০ হাজার ৪০৮ টাকা জমা প্রদান করে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরকে জানিয়েছে।
তদন্তকালে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য ও দলিলাদির ভিত্তিতে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে উদঘাটিত পরিহারকৃত বাকি রাজস্ব আদায় ও আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে মামলাটি সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা পূর্বে প্রেরণ করা হয়েছে। একইসাথে প্রতিষ্ঠাটির ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা থাকায় এর সার্বিক কার্যক্রমের উপর বিশেষ নজরদারি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটকে মনিটরিং করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক







