নীলফামারীর ডিমলায় মাঘ মাসের শেষের বৃষ্টিপাতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন চাষিরা। টানাবৃষ্টিতে সরিষা নষ্ট হওয়ার শঙ্কা করছেন তারা। এতে সরিষার উৎপাদন খরচ ওঠানো নিয়ে যেমন সংশয় তৈরি হয়েছে, তেমনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির ফলে অনেক জমির সরিষা গাছ নুয়ে পড়েছে। আবার অনেক নিচু জমিতে পানি। কোথাও কোথাও আবার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অপরিপক্ব সরিষাকাটা শুরু হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৮২০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। কয়েকজন সরিষা চাষি বলেন, হঠাৎবৃষ্টি ও বাতাসের কারণে মাঠের সরিষা ক্ষেতে হেলে পড়েছে। অনেক জমিতে পানি জমে হেলে পড়া সরিষা খেত ডুবে গেছে। এতে ব্যাপক হারে ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
সদর ইউনিয়নের জমদ্দিস চুপি এলাকার সেলিম বলেন, চলতি বছর ৯০ শতাংশ জমিতে সরিষা আবাদ করেছি। বৃষ্টি হওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। সরিষা গাছগুলো বৃষ্টির জন্য পড়ে গেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় পচন ধরবে। তাই বাধ্য হয়ে অপরিপক্ক সরিষা কেটে ঘরে তুলছি। এতে বিঘা প্রতি এক মণ ফলন কম হতে পারে।
সরিষাচাষি এরশাদুল জানান, এবার সরিষা চাষাবাদ করেছি। এগুলো পাকতে আরো কিছুদিন সময় লাগত। তবে অসময়ের বৃষ্টিতে আমার সরিষার খেতে পানি জমে গেছে। ফলে লাভতো দূরের কথা উল্টো আমাদের লোকসান গুণতে হবে।
কৃষিবিদ আবু সায়েম বলেন, জমিতে পানি জমে থাকলে সরিষা ছত্রাকজনিত রোগের আক্রান্ত হবে। এতে ফসল নষ্ট বা সরিষা দানা কালচে হতে পারে। এ অবস্থায় সড়িষা কেটে রোদে শুকিয়ে নিলে কোনো সমস্যা হবে না। তবে উৎপাদন একটু কমে যাবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, মাঘ মাসের হঠাৎ বৃষ্টিতে উপজেলায় কিছু ফসলের জমিতে পানি জমে ছিল। আমরা তাদের পরামর্শ দিয়েছি সেই ক্ষেতগুলো থেকে দ্রুত পানি বের করে দিতে।








