২০০৪ সালে ১৫ একর জায়গা নিয়ে ভালুকার প্রত্যন্ত গ্রামে মাত্র ৭৪টি কুমির নিয়ে যাত্রা শুরু করে রেপটাইলস ফার্ম। বর্তমানে খামারটিতে রয়েছে ২৫শ কুমির। এরই মধ্যে প্রায় ১৬শ রপ্তানিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
কুমির ব্যবসা ও চাষের সেই পথিকৃত রেপটাইলস ফার্ম এখন নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত। সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত খাবারও পাচ্ছে না ফার্মের কুমিরগুলো। অথচ ৪/৫শ রপ্তানি উপযোগী কুমির রয়েছে খামারে।
ভালুকার রেপটাইল ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের ৪১টি চৌবাচ্চা। ইট দিয়ে ঘেরা চৌবাচ্চার মধ্যে কিছু পানি, উঁচু মাটির ঢিবি, আবার লম্বা ঘাসও রয়েছে। বয়স ও সাইজ অনুযায়ী রাখা হয়েছে আলাদা আলাদা চৌবাচ্চায়। আওয়াজ না পেলে খুব বেশি নড়ে না এরা। বুক আঁকড়ে মাটি কামড়ে পড়ে থাকে। প্রখর রোদে কিছু কুমিরকে দেখা গেলো পানিতে শরীর ডুবিয়ে বসে থাকতে। কিছু কুমির বেশ বড় সাইজের। পাশে থাকা কয়েকজন কর্মী সাবধান করছিলেন। কখন না আবার লাফিয়ে উঠে আক্রমণ করে! খামারের নিরিবিলি পরিবেশের সুযোগে আশপাশের গাছে বাসা বেঁধে অসংখ্য বক। তাদের কিচিরমিচির আওয়াজ লেগেই থাকে সারাদিন।
জানা যায়, কোম্পানির ঋণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় রপ্তানি বন্ধ। এখন শুধু খরচই হচ্ছে, আয় নেই। যে কারণে কুমিরগুলোকে খাবার দেওয়া হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে কম। এতে একসময় ডিম দেওয়া, প্রজনন ক্ষমতা ও শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে সব কুমির।
২০২০ সালের অক্টোবরে কোম্পানির অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (জব্দ) করার পর থেকে খাবারের স্বাভাবিক সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কে কোথায়, তারও হদিস নেই। আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কোম্পানির বিকল্প আয়ও নেই। এখন আশপাশে চাষাবাদের (কৃষি) আয় থেকে ম্যানেজ করে খাবার সরবরাহ করছেন বলে জানিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক আরিফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ২১/২২জন লোক শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। সব মিলিয়ে খামারের মাসিক খরচ আট-নয় লাখ টাকা। সেখানে কোনো আয় নেই। চলবে কীভাবে?
সমাধান কী হতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে কর্তৃপক্ষ বলছেন, পুরো ফার্ম সেল হতে পারে। অথবা রপ্তানির অনুমোদন দিয়ে সেটার আয় দিয়ে কুমিরের খাবারের যোগান দেওয়া যেতে পারে।
জানা যায়, এই খামারে কুমিরের খাবারে মাসে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ হতো। এখন সেটা লাখেরও নিচে করা হয়। ব্যক্তিগত উদ্যোগে আশপাশের খামারগুলোর মরা মুরগি সংগ্রহ করে দেওয়া হয় খাবার হিসেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বাইরে এমন জটিলতা হলে চ্যারিটি ফান্ড করে চালু রাখতো। এই প্রাণীগুলো বাঁচাতো। কিন্তু আমাদের দেশে এই প্রাণীগুলোর ধুঁকে ধুঁকে মরার উপক্রম। আরও খামারের অনুমোদন দেওয়া প্রয়োজন। এই ব্যবসা প্রসারের সুযোগ দিলে একজন ক্ষতিগ্রস্ত হলে আরেকজন রিকভার করতে পারবে। অন্তত কিনে নিতে পারবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণী সম্পদক কর্মকর্তা বলেন, ভালুকার বাথুরায় একটা ফার্ম আছে জানি। তারা ভালো করছে। খাবার সংক্রান্ত কোনো জটিলতা আমার জানা নেই। আমি দু-একদিনের মধ্যে ভিজিট করে ব্যবস্থা নেবো।
আনন্দবাজার/এম.আর








