দুই হাজার কোটি টাকার বাজার
👉 ব্যস্ত আমচাষিরা
👉 গাছ থেকে আমপাড়া শুরু
👉 বৈরি আবহাওয়ায় কম ঘনত্ব
👉 বাইরে পাঠানোর প্রস্তুতি
আমের ব্যাণিজিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত নওগাঁয় বেড়েছে আমের চাষ। জেলা কৃষি বিভাগ দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের বেধে দেওয়া সময় শেষে গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে গাছ থেকে পরিপক্ক আম পাড়া। জেলায় এবার আমের ২ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় আমাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৫ টন। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৫০ টন। প্রতিকেজি আমের গড় মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৮৪২ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার আম বাণিজ্যের আশা করছে জেলার কৃষি বিভাগ।
চলতি মৌসুমে জেলার ২৯ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে চাষকৃত আম বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আমের মধ্যে পাকা শুরু হয়েছে গুটি জাতের আম। গতকাল বুধবার থেকে দেশের বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে নওগাঁর সু-স্বাধু ও রসালো এ আম। জেলায় এবার দেশি জাতের পাশাপাশি চাষ হয়েছে বিদেশি ৯ জাতের আম। বিভিন্ন রংয়ের এসব আম নজর কাড়ছে যে কারো। আমের ফলনও হয়েছে খুবই ভালো। বাহারি রঙের আমের চাহিদা ও দামও অনেক বেশি। অন্যান্য আমের তুলনায় চাষ পদ্ধতি খুব একটা আলাদাও নয়।
দেশের মাটিতে বিদেশি জাতের আম চাষ করেছেন তরুণ কৃষক সোহেল রানা। তিনি জানান, দেশের মাটিতে বিদেশি জাতের আম চাষের আগ্রহ থেকে এমন বাগান করেছেন। তবে বাংলাদেশের মাটিতে এতো ভালো ফলন হবে, এটা তিনি কল্পনাও করেননি। এসব আমের চারা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় বিভিন্ন দেশ থেকে তিনি সংগ্রহ করেছেন। আমগুলো রঙ এবং স্বাদ- সব দিক দিয়েই সেরা। তাই এ আমগুলো বাংলাদেশ থেকে বিদেশে রপ্তানির কথা ভাবছেন তিনি।
সোহেল রানার বাগানে চাষকৃত আমের মধ্য রয়েছে, আমেরিকান- অস্টিন, রেড পালমার, কেইট ও গ্লেইন, জাপানের-মিয়াজাকি, থাইল্যান্ডের- রেড এমপেরর, কিউজাই ও রেড আইভরি, ভারতের- কোহিতুর, পাকিস্তানের- আনোয়ার রাতাউলসহ দেশিও বিভিন্ন প্রজাতির আম রয়েছে তার বাগানে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছেন, চলতি বছর নওগাঁ থেকে ১০০ টন আম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ। রপ্তানিকৃত আমের মধ্যে রয়েছে আম্রপালি, বারি ফোর, ব্যানানা ম্যাংগো, গৌড়মতিসহ বিভিন্ন জাতের আম। ইতিমধ্যে বিদেশে আম রপ্তানির জন্য কয়েকজন আম চাষিকে প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ আম প্রস্তুতের পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি বিভাগ। তাদের বাগান থেকেই আম ইংল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, দুবাই, কাতার, সুইডেন ও ওমানে রপ্তানি করা হবে।
চাষিরা বলছেন, তাদের বাগানে উৎপাদিত আম শতভাগ নিরাপদ ও ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত। ২শ থেকে ৩শ গ্রাম ওজনের আকর্ষণীয় এসব আম বাছাই করে রপ্তানির প্রস্তুতি নিয়েছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রিয় মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্র নিয়েই দ্বিতীয় বারের মত দেশের সীমানা পাড়ি দিচ্ছে নওগাঁর আম। গত বছর এ জেলা থেকে ১৬ টন আম ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়েছে।
সাপাহার বরেন্দ্র অ্যাগ্রো পার্কের উদ্যোক্তা ও আম চাষি সোহেল রানা এ বছর প্রায় ৮০ বিঘা জমিতে আমের চাষ করেছেন। আম্রপালি, বারি-৪, গৌড়মতি, ব্যানানা ম্যাংগো, কাটিমন, ল্যাংড়া, হিমসাগর, ফজলি, মিয়াজিকিসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আম আছে তার বাগানে। এ বছর আম্রপালি, বারি-৪, গৌড়মতি, ব্যানানা ম্যাংগো ও কাটিমন জাতের আম রপ্তানির জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে চাষ করেছেন।
সোহেল রানা বলেন, ‘গত বছর তার এ বাগান থেকে ৮ টন আম ইংল্যান্ড ও কাতারে রপ্তানি করেছি। লাভও ভালোই পেয়েছি। চলতি বছর জার্মানি, ফিনল্যান্ড, দুবাই, ইংল্যান্ড, কাতার, সুইডেন ও ওমানে আম রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। ‘কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আধুনিক ফরুট্স ব্যাগিং ও বিষমুক্ত নিরাপদ আম উৎপাদন করা হয়েছে। চলতি বছর প্রায় ৫০ টন আম রপ্তানি করতে পারবেন বলেও তিনি জানান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শামসুল ওয়াদুদ বলেন, জেলায় এবার বৈরি আবহাওয়ার কারণে আমের ঘনত্ব কম। ঘনত্ব কম হওয়ায় গতবারের চেয়ে আকারে বড় হয়েছে এবারের আম। এতে যা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা পূরণ হবে। এবার এ জেলা থেকে ১শ’ টন আম রপ্তানির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ জন্য শুরু থেকেই আমরা কিছু বাগান নির্ধারণ করেছি। এসব বাগান থেকেই নিরাপদ আম রপ্তানি করা হবে। জেলায় এবার চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৮৪২ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার আম বাণিজ্য হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আনন্দবাজার/শহক








