- সাতকানিয়ায় ঘরে ঘরে উৎসব
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এবারও আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকের ঘরে আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে।আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় যথা সময়ে ফসল ঘরে তুলে নবান্নের পিঠা-পুলি উৎসব সাড়াম্বরে আয়োজন চলছে কৃষকের ঘরে ঘরে।
এ বছর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। অনাবৃষ্টির কারণে শুরুতে আমনের চারা রূপনে কিছুটা সময় দেরি হলেও ছিল না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অগ্রাহয়ন মাসে আমনের বাম্পার ফলন দেখে কৃষক-কৃষাণীর মুখে এখন আনন্দের হাসি ফুটেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা মেতে উঠেছেন ফসল তোলা উৎসবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ মৌসুমে সাতকানিয়া উপজেলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৮শ ৮৫ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ৬শ ৫০ হেক্টর, উফশী জাতের ১১ হাজার ২১৫ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ২০ হেক্টর জমি। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২ হাজার ৯০৩ মে:টন। গত বছর আমন মৌসুমে এ উপজেলায় ধান উৎপাদন হয়েছিল ৫১ হাজার ৭৯৫ মেট্রিক টন। এ মৌসুমে গত মৌসুম থেকে ৮০ হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে।
গত শনিবার পর্যন্ত উপজেলায় রোপা আমন ধান কাটা হয়েছে প্রায় ৮০ ভাগ। তবে শ্রমিক সংকটে অনেক কৃষক যথাসময়ে মাঠ থেকে ধান ঘরে তুলতে পারে নি। শ্রমিক সংকট নিরসনে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে কম্বাইন্ড হারভেস্টার, মাড়াই যন্ত্রের সহযোগিতা দেয়াসহ কৃষককে বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
কৃষকরা বলছেন- চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ভাল থাকায় এবং রোগ-বালাই কম হওয়ায় আমনের ভাল ফলন হয়েছে। ছদাহার কৃষক আবুল হোসাইন বলেন, ৬ কানি জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। উৎপাদন ভাল হয়েছে। ফলন দেখে মনটা ভরে যায়। পুরানগড়ের কৃষক আজাদ হোসেন জানান, প্রায় ১২০ শতক জমিতে স্থানীয় জাতের ধান চাষ করেছেন। এ বছর লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে অত্যন্ত ভাল ফলন হয়েছে। জমিতে যে পরিমাণ ধান উৎপন্ন হয়েছে তা দিয়ে পুরো বছর চলে যাবে। যথা সময়ে বৃষ্টিপাত হওয়ায় চলতি মৌসুমে আমনের ভাল ফলন হয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, এবার আমন লক্ষমাত্রার চেয়ে ২০ হেক্টর আবাদ কম হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকায় এবং রোগ-বালাই কম হওয়ায় আমনের ভাল ফলন হয়েছে। সরকার কৃষি নিয়ে মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষির উন্নয়নে যত আধুনিক পরিকল্পনা করা দরকার সব করছে। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে কৃষককে ভুর্তকী দিচ্ছে।








