চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের চাষাবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে গত এক মাসে প্রায় ৯ হাজার হেক্টরের ধান কেটে গোলায় ভরেছেন চাষিরা। এখন চলছে শেষ পর্যায়ের ধানকাটার কাজ।
হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এখানে প্রায় ৪০ হাজার টন ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধানের ভালো ফলনের প্রত্যাশা কৃষি অধিদপ্তরের।
ইতিমধ্যে পৌরসভাসহ উপজেলার ১২ ইউনিয়নে প্রায় তিন শতাধিক কৃষি মাঠ প্রদর্শনি করা হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি বছর ধানের ন্যাযমূল্য পাওয়ার লক্ষ্যে কৃষকরা আবাদে ঝুঁকে পড়তে দেখা যায়। ধানের নায্যদাম ফেলে উৎপাদনের খরচে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন কৃষকরা।
জানা যায়, গত কয়েক যুগ ধরে হাজীগঞ্জ উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের কৃষি মাঠে দুই ধরনের ফসল উৎপাদন হয়ে আসছে। বিশেষ করে দক্ষিণ অঞ্চলের মাঠগুলো নিচু হত্তয়ার কারণে ও একাধিক ব্রিকফিল্ড গড়ে উঠায় শুধুমাত্র খরা মৌসুমে ইরি-বোরো চাষাবাদ ছাড়া অন্যকোনো ফসল উৎপাদন করতে দেখা যায় না।
উপজেলার উত্তরাঞ্চলের কৃষি মাঠে তিন ধরনের ফসল উঠতে দেখা যায়। বর্ষার সময় আউস ধানের ফলন, খরা মৌসুমে তিন মাসের রবিশস্য ফলন উৎপাদন শেষে ইরি বোরো ধানের চাষাবাদ হয়। যে কারনে উত্তর অঞ্চলের এখনো প্রায় ৫শ’ একর কৃষি জমির ধান মাঠে পড়ে আছে।
কাশিমপুর গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন, রমিজউদ্দিন, আমির হোসেন ও আক্তার হোসেন বলেন, মূলত রমজান মাস থেকে আমরা ধানকাটা শুরু করেছি। এখন মাঠে তেমন কোনো ফসল নেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা খানম জানান, কৃষকরা এবার জমিতে জিরাশাইল, পারিজা, ব্রি-২৮, ২৯ ও ৫০ এবং বি-আর ১০ জাতের ধান রোপন করে ভালো ফলন পেয়েছে। সেই সঙ্গে উন্নত জাতের ধান প্রদর্শনী প্রজেক্টের লক্ষে সরকারিভাবে প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে আনুমানিক ২৫০ টির বেশী প্রদর্শনী প্লট হয়েছে। এসব প্রজেক্ট আমরা পৌর এলাকাসহ পুরো উপজেলার ১২ ইউনিয়নের মধ্যে ৪/৫টি করে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রেখেছি। আবহাওয়ার সর্তকতা তুলে ধরে এ কর্মকর্তা ইতিপূর্বে উপকৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়েছেন কাঁচা-পাকা ধান যেন কৃষকরা দ্রুতকেটে নেয়।








