নানা কারণে সময়ে সময়ে অনেক দেশে নিষিদ্ধ হয়েছে বিভিন্ন সিনেমা। এর মধ্যে কোনটি আবার সমাদৃত হয়েছে বোদ্ধা মহলে। কোনটি আবার জয় করেছে সিনেমার সর্বোচ্চ পুরষ্কার অস্কার। চলুন জেনে নিই এরকমই সেরা ১০টি সিনেমা সম্পর্কে-
১. দ্য টিন ড্রাম (১৯৭৯):
১৯৭৯ সালে অস্কারে বিদেশি সিনেমা বিভাগে সেরার পুরস্কার পায় সিনেমাটি। এতে দেখানো হয় ১১ বছরের এক বালক ১৬ বছরের এক তরুণীর সঙ্গে সঙ্গম করছে। এর বিষয়বস্তুর কারণে কানাডা ও ফিলাডেলফিয়াতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় সিনেমাটিকে। বলা হয় এই সিনেমা চাইল্ড পর্নোগ্রাফি ছাড়া বেশি কিছু নয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই সিনেমাকে ভালো নম্বর দিয়ে বলেছেন, ছবির বিষয়বস্তু ঠিকমত বুঝলে এটা কোনভাবেই নিষিদ্ধ হওয়া উচিত নয়।
২. ক্লক ওয়ার্ক অরেঞ্জ (১৯৭১):
গ্রেট ব্রিটেনে ২৭ বছর ধরে নিষিদ্ধ ছিল স্ট্যানলি কুবরিকের এই সিনেমা। অত্যধিক মারামারি, পাশবিক ধর্ষণের দৃশ্য থাকায় গ্রেট ব্রিটেনে এই সিনেমাকে দেখানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। মার্কিন মুলুকে অবশ্য বেশ প্রশংসা কুড়ায় এই সিনেমা।
৩. থ্রি ডানড্রেড (২০০৬):
যুদ্ধের ওপর তৈরি হওয়া হলিউডের অন্যতম সেরা এই ছবি নিষিদ্ধ ইরান ও আরবের কিছু দেশে। জাতিসংঘের কাছে এই ছবি নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে ইরান বলেছে, তাদের দেশকে অপমান করতে মার্কিনীদের একটা চক্রান্ত ‘থ্রি হানড্রেড’।
৪. দ্য বার্থ অফ এ নেশন (১৯১৫):
এই সিনেমাটি একটি সাইলেন্ট সিনেমা। কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের আক্রমণ করায় মুক্তির পর পরই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় সিনেমাটি। পরবর্তীতে অবশ্য ছবির পরিচালকও স্বীকার করে নেন তার ভুল হয়েছিল।
৫. দ্য সিম্পসন মুভি (২০০৭):
পুরো বিশ্ব যেখানে উপভোগ করেছে এই কার্টুন সিনেমা। সেখানে বার্মায় এক অদ্ভুত কারণে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এই সিনেমাটিকে। বার্মা সরকারের অভিযোগ এই সিনেমায় হলুদ রঙকে প্রচার করা হয়েছে। হলুদ রঙ বার্মা সংস্কৃতির কাছে অপমানকর।
৬. অল কোয়াইট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট (১৯৩০):
এই ছবিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন জার্মান নেতা হিটলার। সিনেমাটি জার্মানি, ও অস্ট্রিয়ায় ১২ বছর ধরে নিষিদ্ধ ছিল। এই ছবি দেখলে নাৎসি বাহিনীর অত্যাচারের মুখে পড়তে হত। ছবিটি হিটলারের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ওপর তৈরি।
৭.সালো/হানড্রেড টোয়েন্টি ডেজ অফ সোডোম (১৯৭৫):
চারজন লোক শিশু ও মহিলাদের অপহরণ করে। তার পর তাদের ওপর চলে অমানবিক অত্যাচার। স্ক্রিনে যা দেখে গা একেবারে শিউড়ে ওঠে। পাওলো পাসোলিনির এই সিনেমা ইরান, সিঙ্গাপুরসহ পাঁচটি দেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
৮. ব্যাক টু দ্য ফিউচার ট্রিলজি (১৯৮৫,১৯৮৯,১৯৯০):
এটি টাইম ট্র্যাভেলের ওপর তৈরি হওয়া মজার একটি ছবি। কিন্তু চিনে এই ছবিটি নিষিদ্ধ। ছবিতে অনেকসময় ভবিষ্যতে যাওয়া হয়েছে। যা নাকি চিনের সরকারের নিয়ম বিরুদ্ধ। পাশাপাশি ছবিতে কুসংস্কারে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া নাকি ছবিতে দেখানো হয়েছে বেইজিংয়ের থেকেও ভালো জায়গা রয়েছে, যা সরকার বিরোধী।
৯. দ্য লাস্ট ট্যাঙ্গো ইন প্যারিস (১৯৭৩):
সাহসী এই ছবিটি মূলত ইরোটিক ড্রামা। এতে একাধিকবার নায়িকার ঘনিষ্ঠ দৃশ্য দেখানো হয়েছে। ছবিটি ইতালি ও স্পেনে নিষিদ্ধ। সিনেমায় একটি দৃশ্যে দেখানো হয় নায়ক মার্লোন ব্র্যান্ডো সঙ্গমের সময় মাখন ব্যবহার করছে। ইতালি ও স্পেনের পক্ষ থেকে বলা হয় খাবার জিনিসকে এভাবে দেখানোটা আপত্তিকর।
১০. ক্যানিবাল হলোকাস্ট (১৯৮০):
বিশ্বের ৪০টি দেশে নিষিদ্ধ করা হয় এই সিনেমায়। অনেকেই বলেছেন, ছবিটি দেখার পর অসুস্থ বোধ করেছেন। ছবিটি একটা ফেক ডকুমেন্টারির ওপর তৈরি। যেখানে ক্যানিবালিজম, গণহত্যা, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনকে অতি জঘন্যভাবে দেখানো হয়েছে। ছবির শ্যুটিংয়ে সত্যিকারের পশু হত্যা করা হয়েছে। ছবির পরিচালকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে অভিনেতা, অভিনেত্রীকেও নাকি সিনেমার সময় খুন করা হয়। অবশ্য সেটা প্রমাণিত হয়নি।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস








