৩০ প্রতিষ্ঠান পেল অ্যাওয়ার্ড, এখন থেকে প্রতিবছর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে এখন সবচেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব শিল্প গড়ে উঠেছে। এটা দেশের জন্য বড় গর্বের বিষয়। ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে দেশে প্রথমবারের মতো ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড প্রদান ও মহিলা কর্মজীবী হোস্টেলসহ আটটি নবনির্মিত স্থাপনা উদ্বোধন করেন।
দেশে প্রথমবারের মতো ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রিন ফ্যাক্টরি তৈরিতে উৎসাহিত হবে। প্রতিযোগিতাময় বিশ্বে দেশীয় শিল্প কলকারখানার উৎপাদন ও রফতানি যেন সঠিকভাবে চলতে পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী মালিক শ্রমিকের সুন্দর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সরকারপ্রধান আরো বলেন, আমরা উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছি। তবে উন্নয়নশীল দেশের কিছু চ্যালেঞ্জ আছে, আমরা সেটা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। করোনার সংকটে প্রতিটি কলকারখানা বা প্রতিষ্ঠানে মালিক ও শ্রমিক যেন ঠিকমতো কাজ করতে পারেন সে ব্যবস্থা করেছি। ভর্তুকি সুবিধাসহ কলকারখানার জন্য বিভিন্ন সুবিধা আমরা দিচ্ছি। এসময় প্রধানমন্ত্রী করোনার সংকটেও উৎপাদন চলমান রাখায় মালিক ও শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানান। দেশকে এগিয়ে নেয়ার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ২০০৮ সালে যে লক্ষ্য স্থির করেছি, সেটা বাস্তবায়ন হয়েছে। দেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। এটা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল। আমরা আশ্রয়ণ প্রকল্পে সবাইকে আশ্রয় দিবো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। এদেশের শিল্প কলখানা যা গড়ে উঠেছে, এগুলো তারই সুযোগ করে দেওয়া। মা যেমন রুগ্ণ সন্তানকে যত্ন করে সুস্থ করে তোলেন, সে রকম স্বাধীনতার পর বন্ধ কল-কারখানা চালুর ব্যবস্থা নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বেসরকারিভাবে কলকারখানা গড়ে তোলার সুযোগ দিয়েছিলেন।
দেশে প্রথমবারের মতো গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ছয়টি শিল্প খাতের ৩০ প্রতিষ্ঠান বা কারখানা। পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট, মেডেল, সার্টিফিকেট এবং এক লাখ টাকা করে চেক দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মনোনীত প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের কাছে পুরস্কার তুলে দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। এখন থেকে প্রতিবছর এই অ্যাওয়ার্ড দেয়া হবে বলে জানানো হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে পোশাক খাতের ১৫টি কারখানা, খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ খাতের তিনটি এবং চা শিল্প খাতের চারটি, চামড়া শিল্প খাতের দুটি, প্লাস্টিক শিল্পের তিনটি এবং ওষুধ শিল্প খাতের তিনটি কারখানা। অন্য ১৫টি পোশাক কারখানা মধ্যে রয়েছে রেমি হোল্ডিংস লিমিটেড, তারাসিমা অ্যাপারেলস লিমিটেড, প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেড, মিথেলা টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও লিমিটেড, এআর জিন্স প্রডিউসার লিমিটেড, করোনি নিট কম্পোজিট লিমিটেড, ডিজাইনার ফ্যাশন লিমিটেড, কেনপার্ক বাংলাদেশ অ্যাপারেলস প্রাইভেট লিমিটেড (কেনপার্ক ইউনিট-২), গ্রীন টেক্সটাইল লিমিটেড (ইউনিট-৩), ফোর এইচ ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং লিমিটেড, উইজডম অ্যাটায়ারস লিমিটেড, মাহমুদা অ্যাটায়ারস লিমিটেড, স্নোটেক্স আউটারওয়্যার লিমিটেড এবং আউকো-টেক্স লিমিটেড।
খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো হলো হবিগঞ্জ এগ্রো লিমিটেড, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড এবং ইফাদ মাল্টি প্রোডাক্টস লিমিটেড। চা শিল্প খাতের চারটি প্রতিষ্ঠান হল গাজীপুর চা বাগান, লস্করপুর চা বাগান, জাগছড়া চা কারখানা এবং নেপচুন চা বাগান। এ ছাড়া, চামড়া শিল্প খাতের দুটি কারখানা হলো অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড ও এডিসন ফুটওয়্যার লিমিটেড। তাছাড়া বঙ্গ বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস লিমিটেড, অলপ্লাস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড এবং ডিউরেবল প্লাস্টিক লিমিটেড প্লাস্টিক খাতের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ওষুধ শিল্পের তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করা অন্য স্থাপনাগুলো নারায়ণগঞ্জে বন্দর মহিলা শ্রমজীবী হোস্টেল ও পাঁচ শয্যার হাসপাতাল সুবিধাসহ শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র, চট্টগ্রামে ছয় তলাবিশিষ্ট শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন দপ্তর, নারায়ণগঞ্জে পাঁচ তলাবিশিষ্ট আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর, বগুড়ায় তিন তলাবিশিষ্ট শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র ও আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর, গাইবান্ধায় তিন তলাবিশিষ্ট শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র। তাছাড়া বাগেরহাটের মোংলায় তিন তলাবিশিষ্ট শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র, খুলনার রূপসায় চার তলাবিশিষ্ট শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র এবং রাঙামাটির ঘাগড়ায় শ্রম কল্যাণ কমপ্লেক্স।
আনন্দবাজার/শহক








