- বেশি দামে ডলার কেনায় অনীহা
- বেশি দাম হাঁকছেন এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো
এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো ডলারের জন্য বেশি দাম চাইছে। তবে বেশিরভাগ ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংকের শাস্তি এড়াতে চায়। তাই তারা বেশি দাম দিয়ে হাউজগুলো থেকে ডলার কিনতে চাইছে না। রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলো ডলার কেনার চেয়ে সরকারি এলসি নিষ্পত্তির দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে।
ব্যাংকগুলো মঙ্গলবার আমদানির জন্য এলসি সেটেলমেন্ট বা নিষ্পত্তি করেছে ১০৫ থেকে ১০৬ টাকা দরে। এক্সপোর্ট পেমেন্ট এনক্যাশের ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকরাও ১০৪ টাকার মতো দাম পেয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক আগের মতোই ৯৫ টাকা দরে ডলার বিক্রি করেছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই দামে ৭০ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে ব্যাংকগুলোর কাছে।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার কিনেছে অগ্রণী ব্যাংক। এই ডলার দিয়ে সরকারি আমদানির অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এদিন বেসরকারি কোনো এলসির পেমেন্ট করেনি ব্যাংকটি।
একাধিক সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডলারের দাম এখন কমার দিকে রয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকিও এখন বেড়ে গেছে। তাদের ধারণা, ডলারের বাজার এখন আগের তুলনায় কিছুটা স্থিতিশীল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলো লেনদেনের ক্ষেত্রে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক।
জানতে চাইলে এক বেসরকারি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান বলেন, এলসি পেমেন্ট ম্যাচুরিটি সাধারণত গড়ে ৯০ দিনের হয়। মে থেকে এলসি খোলার বিষয়ে ব্যাংকগুলো অনেক কঠোর হয়ে গেছে। অপ্রয়োজনীয় রপ্তানির ক্ষেত্রে তাদেরকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। ফলে প্রায় তিন মাসের ব্যবধানে ইমপোর্ট এলসির চাপটাও এখন কিছুটা কমে এসেছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়াটাও ডলারের চাহিদায় প্রভাব ফেলেছে। ব্যাংকগুলোর ডলার কেনায় কম্পিটিশনও আগের তুলনায় কমেছে। বেশিরভাগ ব্যাংকই বেশি দাম দিয়ে ডলার কিনছে না।
ডলার সংকটের কারণে গত ৮ অগাস্ট এলসি সেটেলমেন্ট রেট সর্বোচ্চ ১১২ টাকায় গিয়ে পৌঁছায়। ওইদিনই ডলার কেনাবেচা থেকে বাড়তি লাভ করায় পাঁচটি দেশি ও একটি বিদেশি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানদের অপসারণ করা হয়। পরে তাদেরকে ব্যাংকের হিউমেন রিসোর্স ডিপার্টমেন্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সিদ্ধান্তের জেরে পরদিনই ১১০ টাকায় নেমে আসে এলসি সেটেলমেন্টে ডলারের দাম। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে ডলারের দাম। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, অতিরিক্ত লাভ করা আরো কয়েকটি ব্যাংকে অনিয়ম হয়েছে কিনা জানতে অনুসন্ধান চলছে।








