বৃহত্তর কুলের বাজার
ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা বনপাড়ায় দেশের বৃহত্তর কুলের বাজার জমে উঠেছে। প্রতিদিন এ বাজারে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার কুল বিক্রি হচ্ছে। চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, চাষাবাদ কম হওয়ায় কুলের দর আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বনপাড়া বাইপাস মোড় এলাকাজুড়ে বসে এ বাজার। পেয়ারাসহ অনান্য ফলের আমদানি হলেও বাজারজুড়েই চলে নানা জাতের কুলের (বরই) কেনাবেচা। বিশেষ করে চাষিরা চীনা, থাই, বাউ, কাশমেরী, বেবীসুন্দরী, বামিস, নারীকেলী, আপেল ও বলসুন্দরী কুল বিক্রির জন্য জড়ো হন এ বাজারে।
আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন বলেন, এ বাজারে ২৯টি আড়ৎ রয়েছে। কোনো কোনো চাষি সরাসরি নিজেদের বাগান থেকে কুল সংগ্রহ করে বাজারের আড়তে নিয়ে আসেন। আবার ব্যবসায়ীরা চাষিদের বাগান থেকে কুল কিনে আনে পাইকারি বিক্রির জন্য। নাটোরের কয়েকটি উপজেলাসহ কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা, রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন বাগান থেকে প্রতিদিন কয়েকশ মণ বরই বিক্রির জন্য এ বাজারে নিয়ে আসা হয়। ঢাকা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, নারায়নগঞ্জ, সিলেট, নোয়াখালী, ফেনী , চট্টোগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরের পাইকাররা এখান থেকে কুল কিনে নিয়ে যায়। ভোর থেকে কেনা-বেচা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
গত শনিবার সকালে বনপাড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশে কুলের ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়াভিড়। ট্রাক, ট্রলি ও ভটভটিতে করে নানা জাতের কুল আনা হচ্ছে।
আড়তদার আশরাফুল ইসলাম, এবার প্রতিমণ (৪০) কেজি চায়নিজ কুল গড়ে ৪শ’ টাকা, বাউকুল মান অনুসারে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা, আপেল কুল দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার, কাশমেরী কুল দুই হাজার ২২শ’ থেকে ২৫শ’ টাকা, বেবীসুন্দরী ২৫শ’ থেকে তিন হাজার, থাইকুল ৫শ’ টাকা, বামিস ১২শত টাকা, নারীকেলী ১৮শ’ থেকে দুই হাজার, বলসুন্দরী ২৬শ’ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। যা অন্য বছরের তুলনায় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি।
উপজেলা কৃষি সম্পসারণ কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, ২০০৯ সাল থেকে স্থানীয় কুল চাষিদের উদ্যোগে বনপাড়ায় রুলের বাজার গড়ে উঠে। এটা বৃহত্তম বরই বাজার। প্রতিদিন দের থেকে দুই কোটি টাকার বরই বিক্রয় করা হয়।








