মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আলু উত্তোলন শুরু হলেও ফলন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা। এরই মধ্যে উপজেলার বীরতারা, আটপাড়া, তন্তর ও কুকুটিয়া এলাকায় আলু চাষিদের কিছু কিছু জমিতে আলু তুলতে দেখা গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, প্রতি কানি জমিতে (১৪০ শতাংশ) ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ মণ আলু উৎপাদন হতে পারে। ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকাদরে প্রতিমণ আলুর দরদাম হাকাচ্ছেন পাইকাররা। তবে এদামে এখনই আলু বিক্রি করতে চাইছেন না চাষিরা। উত্তোলনকৃত আলু সংরক্ষণে বসতবাড়ির গোলাঘর কিংবা স্থানীয় হিমাগারে রাখছেন তারা। স্থানীয় বাজারে প্রতিকেজি আলু খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৬ থেকে ২০ টাকা দরে।
কুকুটিয়া এলাকার আলু চাষি আলম হোসেন বলেন, গত মঙ্গলবার তিনি একটি জমি থেকে আলু তুলছেন। আশানুরূপ ফলন হয়নি। আলুর সাইজ অনেকটাই ছোট। দাম কম থাকায় আলু সব হিমাগারের পাঠাচ্ছি। প্রায় ৪ হাজার বস্তা আলু (৫০ কেজির বস্ত) হিমাগারে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। বীরতারা এলাকার চাষি জাহাঙ্গীর বলেন, আলুর রকম দেখে ধারনা করছি প্রতি কানিতে ৩০০ মণের বেশি আলু উৎপাদন হবে না। ৫ কানি জমিতে আলুর চাষ করেছেন তিনি। চলতি মাসের শেষের দিকে পুরোদমে জমিতে আলু উত্তোলণ শুরু হবে।
চলতি বছর আলুর মৌসুমের প্রথম দিকে অসময়ের বৃষ্টিতে আলুবীজ বপনকৃত জমি সব নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে মধ্যবর্তী সময়ে অতিরিক্ত খরচ করে পুনরায় জমিতে আলু চাষাবাদে বিড়ম্বনায় পড়েন চাষির। সার্বিক পরিস্থিতিতে আলুর বর্তমান বাজার দর নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে এমনটাই বলছেন আলু চাষিরা।
স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এর আগে অসময়ের টানা বৃষ্টির পানিতে প্রায় ৬০০ হেক্টর আলুবীজ বপনকৃত জমি ডুবে নষ্ট হয়। সার্বিক পরিস্থিতির কারণে আলুর আশানুরূপ ফলন না হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।








