মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বেড়েছে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সারের উৎপাদন। গেল বছর উপজেলা কৃষি অফিস প্রকল্পের মাধ্যমে বার্মি কম্পোস্টের উৎপাদনে কৃষকদের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করে। গেল বছরের উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা ব্যাপক হওয়ার এবার প্রায় শতাধিক জায়গায় বার্মি কম্পোস্টের উৎপাদন হচ্ছে। পরিবেশ বান্ধব ও রাসায়নিক মুক্ত হওয়ায় এ সারের ব্যবহার ও উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ছে অনেকের।
উপজেলার জয়চন্ডি, হাজিপুর, ব্রাম্মণবাজারসহ অনান্য ইউনিয়নে ক্ষুদ্র আকারে বার্মি কম্পোস্টের উৎপাদন শুরুরদিকে অল্প হলেও এখন চাহিদা বাড়ায় অনেকেই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে উৎপাদন করছেন। উপজেলার জয়চন্ডি ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের মরিয়ম বেগম একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় প্রথমে একটি রিং দিয়ে শুরু করেছিলেন বার্মি কম্পোস্টের উৎপাদন। এখন ৮টি রিং থেকে নিয়মিত বার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করছেন। উৎপাদন ভালো হওয়ায় নিজের ফসলি জমিতে ব্যবহারের পাশাপাশি তিনি উপজেলা শহরে কীটনাশকের দোকানে বিক্রি করেন। মরিয়ম তার সবজি ক্ষেতে লাউ, কুমড়া, শাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজিতে ব্যবহার করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তিনি আগে বাজার থেকে রাসায়নিক সার কিনে সবজি ক্ষেতে করতেন। বর্তমানে নিজের করা উৎপাদিত সার ব্যবহার করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। নিজে ব্যবহারের পাশাপাশি প্যাকেট করে কেজি হিসেবে কীটনাশকের দোকানে নিয়মিত বিক্রি করেন। ১৫ টাকা দরে তিনি এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩২৫ কেজি সার বিক্রি করেছেন।
রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক রয়েছে।এতে মারাত্মক ক্ষতিকর দিক রয়েছে। খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধীরে ধীরে বিকল হয়ে পড়ে। মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ফসলের মাঠসহ নদী-নালা, হাওর-বাঁওড়ে গিয়ে মাছের মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখা হয়। অনেক সময় পাখি ও প্রাণীরও ক্ষতি হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিকের কারণে। অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে যা ভবিষ্যৎতে ফসল উৎপাদন বিঘ্নিত হতে পারে। ফলে কেঁচো সারসহ জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার এক ধরনের বিশেষ প্রজাতির কেঁচো দিয়ে উৎপাদন করানো হয়। যা জমির উর্বরতা বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। ১ মাসের বাসী গোবর বা শাক-সবজির উ”িছষ্ট অংশ, কলাগাছের টুকরো খেয়ে কেঁচো মল ত্যাগ করে এবং এর সঙ্গে কেঁচোর দেহ থেকে রাসায়নিক পদার্থ বের হয়ে কেঁচো সারের উৎপাদন হয়।সার তৈরি হওয়ার পর কেঁচো সতর্কতার সাথে চালুনি দিয়ে আলাদা করতে হয়।সার আলাদা করে কেঁচোগুলো পুনরায় কম্পোস্ট তৈরির কাজে ব্যবহার করা যায়।এ সার সব ধরণের ফসল ক্ষেতে ব্যবহার করা যায়। ‘বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচোসারে মাটির পানি ধারণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বায়ু চলাচল বৃদ্ধি পায়।ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়।বার্মি কম্পোস্ট ধান ক্ষেত এবং পান চাষেও ব্যবহার করা যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন জানান, রাসায়নিকমুক্ত এ সার ফসলের জন্য খুবই উপকারি। উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় কেঁচো সারের উৎপাদন হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস সার উৎপাদনে কৃষকদের সহযোগিতা করছে।








