রবি শস্যের মধ্যে অন্যতম ফসল হচ্ছে গম। আমন ধানের চাষ ভালো না হওয়ায় লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গমের আবাদের দিকে ঝুঁকছেন পঞ্চগড়ের স্থানীয় চাষিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় রেকর্ড পরিমান গমের চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জেলায় ২১ হাজার ৫৪০ হেক্টরে বারি গম-২৮, ২৯, ৩২ এবং ৩৩ উন্নতজাতের অধিক ফলনশীল গমের আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাইয়ের তেমন কোনো আক্রমণ না থাকায় গমের ভালো ফলন হবে। জেলায় কৃষি বিভাগের তালিকাভুক্ত করা চাষিদের মাঝে উন্নতজাতের গমবীজ, সার, বালাইনাশকসহ অন্যান্য উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রান্তিক চাষিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগীতা প্রদান করে আসছে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের বুড়িপাড়া এলাকার গমচাষি সাইবুল ইসলাম জানান, আমন ধান চাষে লোকসান গুনতে হয়েছে আমাকে। চলতি মৌসুমে দুই একর জমিতে গমের চাষ করেছি। গত বছরের তুলনায় বর্তমান মৌসুমে আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে গমের ভালো ফসলের আশা করছি। গম চাষের এক মাস সময়ের মধ্যে সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। এবার দুই থেকে তিন বার বৃষ্টি হওয়ায় সার, কীটনাশক, বালাইনাশক ও নিড়ানীতে খরচ অনেক কম হয়েছে। এছাড়াও গমে পোকার আক্রমণ তেমন একটা হয়নি।
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান সাজু বলেন, বর্তমান চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে গম চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার তেঁতুলিয়া উপজেলায় ৬ হাজার ১শ’ হেক্টরে ৫ হাজার টন, সদরে ৫ হাজার ৫৪০ হেক্টরে ৫ হাজার ৪৪০ টন, আটোয়ারী ৩ হাজার ৯৫০ হেক্টরে ৩ হাজার মেট্রিক টন, বোদায় ২ হাজার ৯৫০ হেক্টরে ৩ হাজার মেট্রিক টন এবং দেবীগঞ্জ উপজেলায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ১ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন গমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ১৬ মণ গমের ফলন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।








