বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ---
গীতিকার মঞ্জুর উল আলম চৌধুরী
বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা- এই শব্দগুলো সবসময় চেতনাকে নাড়া দেয়। আর এই চেতনায় উজ্জীবিত হয়েই গান লেখেন মো. মঞ্জুর উল আলম চৌধুরী। মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান লেখায় হাত দেন তিনি। ২০১৯ সালের অক্টোবরে তিনি জাতির পিতাকে নিয়ে লিখে ফেলেন কালজয়ী গান ‘মহানায়ক’। এই গানের সুরকার রাজেশ ও শিল্পী মিজান। গানটির প্রতিটি শব্দে বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা নিবেদনের বিষয়টি স্পষ্ট। ‘মহানায়ক’ ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশ পায় জি সিরিজের ব্যানারে।
গানটি ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গীতিকার মঞ্জুর উল আলম চৌধুরীর আশা তার এই গানটি একদিন কোটি মানুষের হৃদয়ে আসন করে নেবে ও আগামি প্রজন্ম দেশ প্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হবে। বর্তমানে চাকরির ব্যস্ততার মাঝেও সুযোগ পেলেই তিনি গান লিখেন। এই চর্চা আমৃত্যু চালিয়ে যেতে চান তিনি।
তবে শুধু গান লিখেই ক্ষান্ত হননি, চাকরিকালীন তার কর্মস্থল সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নিজ উদ্যোগে নির্মাণ করেন মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ ‘অদম্য স্বাধীনতা’। মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে ঢাকায় দু’টি রেলকোচে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল যাদুঘর নির্মাণে পালন করেন মুখ্য ভূমিকা।
গীতিকার মঞ্জুর উল আলম চৌধুরী পেশায় যন্ত্র প্রকৌশলী। দশম বিসিএসের মাধ্যমে যোগ দেন সিভিল সার্ভিসে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার রানীপুকুর ইউনিয়নের তাজনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৬৪ সালে ১ জুন তার জন্ম। স্কুল শিক্ষক ও সমাজসেবক বাবা রইছউদ্দিন চৌধুরী ও মা বেগম জোবেদা খাতুনের সংসারে আট ভাইবোনের মধ্যে তার অবস্থান সাত। সাত মানেই সৌভাগ্য, সেই সৌভাগ্য নিয়েই জন্ম নেয়া মঞ্জুর ছেলেবেলায় গ্রামের সোঁদামাটির গন্ধ গায়ে মেখে বেড়ে উঠেছেন।
প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজজীবন পার করেন রংপুর ক্যাডেট কলেজে। তারপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্ত্র প্রকৌশলে ডিগ্রি লাভ করে যোগ দেন সিভিল সার্ভিসে। অত্যন্ত উদ্যমী, সাহসী ও সুন্দরের স্বপ্ন দেখা নিভৃতচারী এই মানুষটি সাহিত্য ও সংগীত অনুরাগী।
তাজনগর গ্রামের মেঠোপথ, বাঁশ ঝাড়ের শন শন শব্দ, রাতে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক, গ্রামের রাখালবালকের বাঁশীর সুর, ক্ষেতের কাকতাড়ুয়ার সবকিছুই স্মৃতির এ্যালবামে আটকে রেখে বড় হয়েছেন তিনি। স্কুলজীবনে দেয়াল পত্রিকায় লেখা দিয়ে তাঁর লেখক জীবনের শুরু। তখন এক বসাতেই চটজলদি লিখে ফেলতেন শিল্প, সাহিত্য ও বিজ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন লেখা।
১৯৯৫ সালে তিনি লেখেন তার প্রথম মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কবিতা ‘মুক্তিযোদ্ধা’। ২০০৫ সালে চাকরির কারণে তার পোস্টিং ছিল রাজশাহীতে। সময় পেলেই পদ্মার পাড়ে হেঁটে বেড়ানো এক ধরনের নেশায় পরিণত হয়েছিল তার। পদ্মার ঢেউ ও দুই ধারের নৈঃসর্গিক রূপ তার কবি মনকে নাড়ায়ে দেয়। এখানেই তার মুক্তিযোদ্ধা কবিতাটি সুর করে গাওয়া হলে গান রচনার প্রতি তার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তারপর শুধু গান আর গান, লিখে ফেলেন শতাধিক গান।
প্রথমদিকে গানের সুর করেন শাহজাহান, জামিউর রহমান লেমন, এরপর নজরুল ইসলাম, মোস্তাকসহ আরো অনেকে। বেশকিছু গানে কণ্ঠ দেন দেশ বরেণ্যশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী, রফিকুল আলম, শাকিলা জাফর, শাম্মী আকতার, ফকির আলমগীর, আবদুর জব্বার, ফাহমিদা চৌধুরী, ভারতের জো জো ও অমিত গাঙ্গুলি প্রমুখ।
অমিত গাঙ্গুলির গাওয়া ‘ভরা বরষা’ গানটির জন্য ভারতের ইন্দোবাংলা কালচারাল সোসাইটি তাকে শ্রেষ্ঠ গীতিকারের সম্মানে ভূষিত করে। মঞ্জুর উল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার।








