শীত আর ঘনকুয়াশা উপেক্ষা করে ঝিনাইদহে শুরু হয়েছে ইরি-বোরো চাষাবাদ। শীতে ইরি-বোরোর চারা নষ্ট হলেও রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। গতকাল বুধবার জেলায় মোট লক্ষ্যমাত্রার শতকরা হিসেবে ৪০ ভাগ জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, ঝিনাইদহ জেলায় পুরোদমে ইরি-বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ জমি চাষ দিয়ে প্রস্তুত করছেন, কেউ বীজ তুলছেন। আবার কেউ চারা লাগাচ্ছেন।
মহেশপুর উপজেলার যাদবপুরের কৃষক মহিবুল মিয়া জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ৩৫ বিঘা জমিতে ইরি ধান করবেন। এখন পর্যন্ত ১৮ বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি জমিতে কাঁদা তৈরির কাজ চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে লাগানো কাজ শেষ হবে। প্রতিবিঘা জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে দেড় হাজার টাকা শ্রমিককে দিতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানান, জেলার ৬ উপজেলায় ৭৮ হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৬৯ হাজার ৮৫৫ হেক্টর উফসি জাতের এবং ৯ হাজার হেক্টর হাইব্রিড জাতের ধান চাষ হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৬৫৪ হেক্টর বীজতলা বেশি তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ ৪ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করেছে কৃষক। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত চলতি মৌসুমে জেলায় ৩১ হাজার ৩৫৭ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। এরমধ্যে উফসি জাতের ২৮ হাজার ৬শ’ হেক্টর এবং হাইব্রিড ২ হাজার ৭৫৭ হেক্টর। চলতি মৌসুমে ইরি বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে বলে কৃষি বিভাগ আশা করছেন।
আনন্দবাজার/এম.আর








