করোনা পরিস্থিতিসহ পবিত্র মাহে রমজানকে পুঁজি করে বরগুনায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে অস্বাভাবিক নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে ওঠায় বিপাকে পড়ছেন সীমিত আয়ের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ।
সরেজমিনে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেল, একদল অসাধু মজুদদার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থিতিশীল করছে এমন অভিযোগ খুচরা ব্যবসায়ীদের। অধিক মুনাফা লাভের আশায় এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা চাল, ডাল, চিনি, তেলসহ নিত্যপণ্যের মজুদ বাড়াচ্ছে তাঁদের গুদামে। এদিকে দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শনসহ বাজার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও থেমে নেই এসব সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য।
নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক সূত্রে জানিয়েছেন, সিন্ডিকেট করে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি করার কথা। তাঁদের দাবি, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ঢাকা থেকে মাল এনে বাজারে সরবরাহ করছেন। তারাই ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণ করে দিচ্ছেন।
চাল ব্যবসায়ীসহ ক্রেতাদের সূত্রে জানা যায়, এক সপ্তাহ পূর্বে জেলায় চালের বাজারে ৫০ কেজি ওজনের প্রতিবস্তা সাদা মোটা ছিল ১৭০০ টাকা, বর্তমানে ২২০০ টাকা, নূরজাহান টেপু’র মূল্য ছিল ১৪৫০ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২২৫০ টাকায়। দাদা মিনিকেট আগে ছিল ২৩০০ টাকা বস্তা বর্তমানে ২৯০০ টাকা। বালাম-২৮ ছিল ১৮০০, বর্তমানে ২৪০০ টাকা। কাজল মোটা ছিল ১২৫০, বর্তমানে ১৯০০ টাকা। ১৫০০ টাকার স্বর্ণ মুশুরী বর্তমানে ২২০০ টাকা। ২১০০ টাকার পাইজাম চাল বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৪০০ টাকায়। বস্তাপ্রতি চালের এমন মূল্য বৃদ্ধির ফলে খুচরা বাজারে প্রকারভেদে প্রতিকেজি চালের মূল্য বেড়েছে ১০-১৬ টাকা। লাগাতার লকডাউনে সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজারে বস্তাপ্রতি চালের মূল্য বেড়েছে ৬০০-৮০০ ঢাকা হারে।খুঁচরা বাজারে যা আরো বেশি।তবে বোরো ধানের চাল বাজারে এলে চালের বাজার বিয়ন্ত্রণে চলে আসবে এমন আশাও তাদের।মূল্য বেড়েছে মুদি মালের বাজারেও।
রমজান শুরুর সঙ্গেই বেশি ব্যবহৃত পণ্যসামগ্রী মধ্যে আদার দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এক সপ্তাহ পূর্বে প্রতিকেজি ১২০ টাকার আদা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩০০থেকে ৪০০ টাকায়। ৩৫ টাকার প্রতিকেজি পেঁয়াজ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। প্রতিকেজি ১৬ টাকার আলু বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৫ -৩০ টাকায়। ৭৫ টাকার প্রতিকেজি রসুন বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। প্রতিকেজি ছোলাবুট ছিল ৭০ টাকা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা। প্রতিকেজি মসুর ডাল ছিল ৬০ টাকা বর্তমানে প্রকারভেদ ১২০ টাকা পর্যন্ত। ৯০ টাকার সয়াবিন তেল বর্তমানে ১২০ টাকা এবং ৫৫ টাকার চিনি বর্তমানে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এক সপ্তাহ পূর্বে মুড়ি প্রতিকেজি ছিল ১০০ টাকা বর্তমানে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বরগুনার বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাজিব আহসান বলেন,প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বাজারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নজরদারি বাড়ানোসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।রমজান মাসে উপজেলার পৌর বাজারসহ স্থানীয় বাজার গুলোতে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করে দেওয়া হবে।
আনন্দবাজার/শহক/মিরন







