মাঘের বৃষ্টিতে চাঁদপুরে আবাদি জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে থেকে কয়েক ঘন্টার ভারি বর্ষণে অধিকাংশ ফসলি জমির বীজতলায় পানি জমে গেছে। জমিতে হেলে পড়েছে সরিষার গাছ। তাছাড়া নিচু জমির শাকসবজির ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। তবে পরপর দুই দফার বৃষ্টিতে বড় ধরনের ক্ষতির শংক্ষায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে আলু চাষিদের।
চাঁদপুর কৃষি অফিস ও স্থানীয় কৃষকরা জানান, লাভজনক ফসল এবং উপযোগী মাটি হওয়ায় নদীবিধৌত চাঁদপুর জেলায় আলু চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে দেশে আলু চাষে চাঁদপুর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থ বছরের রবি মৌসুমে চাঁদপুরে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৯ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে বিজতলায় পানি জমে থাকায় আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে।
অন্যন্য বছরের ন্যায় এবারও চাঁদপুরে কৃষকরা বুকভরা আশা নিয়ে আলু চাষ করেছে। আর মাত্র অল্প কয়েক দিন পরেই কৃষকদের সেই কাঙ্খিত ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছিলো। তবে হঠাৎ করে অসময়ের বৃষ্টি সেই স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্নে রূপ নিচ্ছে। এভাবে বৃষ্টির পানিতে বীজতলা দুই-তিনদিন ডুবে থাকলে সব আলু নষ্ট হয়ে যাবে।
সদর উপজেলার শাহমামুদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর ব্লকের কৃষক জামাল গাজী ও খোকন গাজী জানান, গত ৩০ নভেম্বর তারা ১১২ শতক জমিতে আলুর আবাদ করেছিলেন। এরপর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ঘুর্ণিঝড়ে আলুর বিজতলা পানিতে তলিয়ে যায়। তারপর ধার-দেনা করে পুনরায় আলু বীজ লাগান। কিন্তু গতকাল হঠাৎ করে বৃষ্টিতে আলুর বীজতলায় পানি জমে গেছে। এমনিতে আলুর দাম কম, তারপর হঠাৎ বৃষ্টিতে আলুর বিজতলার ক্ষতি হলো। এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবো কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। এভাবে দু-তিনদিন আলু পানিতে ডুবে থাকলে সব আলু নষ্ট হয়ে যাবে। এতে করে বিপুল ক্ষতিতে পড়তে হবে তাদের।
চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নরেশ চন্দ্র দাস জানান, ২০২১-২২ অর্থ বছরের রবি মৌসুমে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৯ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে। ইতিমধ্য ৭ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। তবে ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি এবং ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে দুই দফায় বৃষ্টিপাতের কারণে আলু উৎপাদন কিছুটা বিঘ্নের শঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য ফসলেরও কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। অচিরেই ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হবে।
উল্লেখ্য, চাঁদপুরে সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২ লাখ টন। চাঁদপুরে ১২ টি হিমাগারে ৭০ হাজার মে. টন আলু সংরক্ষণ করার ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। বাকি আলু হিমাগারের বাহিরে থাকে। এর মধ্যে কিছু পরিমাণ আলু উৎপাদন মৌসুম থেকে বিক্রি হয়ে আসছে এবং বাকি আলু কৃষকগণ কৃষিবিভাগের পরামর্শে কৃত্রিমভাবে মাচায় সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে কৃষিদপ্তর জানান ।








