কভিড-১৯ বিধিমামলার বিরুদ্ধে কানাডায় ট্রাকচালকদের অব্যাহত বিক্ষোভ দমনে জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করতে চান দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। যদি তা হয়, চলমান বিক্ষোভ দমনে দেশটিতে প্রথমবারের মতো এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে কানাডিয়ান সিভিল লিবার্টিজ এসোসিয়েশনের মতো বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন শুরু থেকেই এ প্রস্তাবের বিরোধিতা জানাচ্ছে। খবর রয়টার্স।
খবরে বলা হয়, গত জানুয়ারিতে করোনার বিধি-নিষেধ কড়াকড়ি করে কানাডা সরকার। এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় আসা ট্রাকচালকদের কোয়ারেন্টিনে থাকা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া তাদের পূর্ণাঙ্গ ডোজ টিকা নিতেও বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২৯ জানুয়ারি থেকে ফ্রিডম কনভয় নামে বিক্ষোভ শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা পুরো কানাডায় ছড়িয়ে পড়ে। সীমান্তে ট্রাক চালকদের অবরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
গতকাল সোমবার রাজধানী অটোয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন জাস্টিন ট্রুডো। এ সময় তিনি বলেন, চলমান অবরোধ আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি করছে। জননিরাপত্তাও বিপন্ন। আমরা অবৈধ এবং বিপজ্জনক এ কার্যকলাপ চলতে দিতে পারি না এবং দেব না।
তিনি বলেন, চলেমান পরিস্থিতিতে ইমার্জেন্সি অ্যাক্ট’র মাধ্যমে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে। তবে, হয়ত এখনই এর প্রয়োজন হচ্ছে না।
যদিও প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আলবার্টা, কুইবেক, ম্যানিটোবা এবং সাসকাচোয়ানের প্রিমিয়ারগণ। তারা বলছেন, এই আইন অপ্রয়োজনীয়। কানাডিয়ান সিভিল লিবার্টিজ এসোসিয়েশন বলছে, সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা, নিরাপত্তা হুমকি এবং ভৌগলিক অখণ্ডতা হুমকির মতো পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা জারির বিধান রয়েছে। বর্তমানে সে ধরণের কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
কিন্তু ট্রুডো বলছেন, জরুরি ক্ষমতা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ভৌগলিকভাবে নির্দিষ্ট এবং যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানে জারি হবে। নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও তাদের চাকরির সুরক্ষায় নেয়া হয়েছে। আমার চাই জনগণের বিশ্বাস আমাদের প্রতি ফিরে আসুক। জরুরি আইন জারি হলে তা স্বল্প সময়ের জন্য থাকবে।
জরুরি ক্ষমতার ব্যবহার শুরু হলে সাময়িক সময়ের জন্য সাধারণ নাগরিকদের চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এরই মধ্যে বিক্ষোভকারীদের যেকোনো আর্থিক সাহায্য বন্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কানাডা সরকার। মূলত অবৈধ বিক্ষোভ থামাতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।
কানাডায় ইমার্জেন্সি অ্যাক্ট আইন পাস হয় ১৯৮৮ সালে। দেশটিতে যখন কঠিন পরিস্থিতি শুরু হয়, যা অন্য কোনো আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ হয় না; তখন জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়।
আনন্দবাজার/শহক








