- সরকারিতে গচ্চা ৩১৬৮ কোটি টাকা
- বিপরীত চিত্র বেসরকারি পাটকলের
এক সময়ের দেশের গৌরবের সোনালি আঁশ এখন শুধুই সুখ স্মৃতি। বর্তমানে অর্থনীতির অন্যতম দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে রপ্তানিতে নেতৃত্ব দেওয়া দেশের পাটখাত। মুনাফা তো দূরের কথা, গত দশ বছরে দেনার দায়ে নুয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময়ের দুর্নীতি-অনিয়মসহ নানা সীমাবদ্ধতায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।
গত অর্থবছরে বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশন (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন মিলগুলো তিন হাজার ১৬৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে। এ সময়ে মিলগুলো আয় করেছে ৪৮৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ব্যয় করেছে তিন হাজার ৬৫২ কোটি ৯৪ কোটি টাকা।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গার প্রশ্নের উত্তরে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
এই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিটিএমসির ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২৪টি বন্ধ রয়েছে এবং একটি ভাড়ায় চলছে। বন্ধ ২৪টির মধ্যে দুটিতে টেক্সটাইল পল্লী স্থাপন এবং দুটি পিপিপিতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
সরকারি দলের হাবীব হাসানের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বর্তমানে দেশে (২০১৮ সালের শুমারি) ৫৮৯টি তাঁত ফ্যাক্টরি ও এক লাখ ১৬ হাজার ১১৭টি ইউনিট রয়েছে। পাওয়ার লুম ছাড়া তাঁত শিল্পে বছরে প্রায় ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ ৪০ হাজার মিটার তাঁতবস্ত্র উৎপাদিত হয়। যা দেশের বস্ত্র চাহিদার ২৮ শতাংশ (পাওয়ার লুম ব্যতীত) পূরণ করে। শরিফুল ইসলাম শিমুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের তাঁত সংখ্যা দুই লাখ ৯০ হাজার ২৮২টি।
বেগম লুৎফুননেসা খানের প্রশ্নের জবাবে পাটমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে ৫ দশমিক শূন্য তিন লাখ টন কাঁচাপাট রপ্তানি করা হয়েছে। এছাড়া গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৮৬ লাখ টন কাঁচাপাট ও ৭ দশমিক ৮২ লাখ টন পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
বিপরীত চিত্র বেসরকারি খাত
পাট খাতের পুনর্জাগরণ ও পরিবেশদূষণ রোধে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন করে সরকার। ২০১৩ সালে আইনটির বিধিমালা সংশোধন করে ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার, চিনি সংরক্ষণ, সরবরাহ ও মোড়কীকরণে পাটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়।
পরবর্তী সময়ে দুই দফায় আরও ১৩টি পণ্যে পাটের বস্তা বাধ্যতামূলক করা হয়। তাতে দেশের ভেতরে পাটের বস্তার বিরাট চাহিদা তৈরি হয়। শুরুতে সুবিধাটি নিতে পারলেও ধীরে ধীরে সরকারি পাটকলের হিস্যা কমে যায়। বর্তমানে পাটের বস্তার বড় ব্যবসাই করে বেসরকারি পাটকলগুলো।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারত, পাকিস্তান, আইভোরিকোস্ট, ব্রাজিল, ইথিওপিয়া, জার্মানি, স্পেন, ইংল্যান্ড, মিসর, চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। দেশের ভেতরেও পাটজাত পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে বেসরকারি পাটকলগুলো।








