বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার মিরসরাই উপজেলায় দিনদিন বাড়ছে ড্রাগন ফলের চাষ। পতিত জমিতে বিদেশী জাতের এ ফলটি চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। চলতি বছর উপজেলায় ড্রাগন চাষের আওতায় এসেছে আবাদি ও অনাবাদি ১০ একর জমি। উপজেলার খিলমুরালীতে আলী আকবর জীবন, পদুয়ায় মো. সালা উদ্দিন, মসজিদিয়ায় রাসেদুল ইসলাম, পূর্ব মঘাদিয়ায় শামিমা আক্তার, আজম নগরে মুছা মিয়া, ঘরতাকিয়ায় সিরাজ উদ্দিন মাসুদ, সোনাপাহাড় এলাকার ফিরোজ খাঁন, নাহার এগ্রো গ্রুপ বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগনের আবাদ করেছে । সবচেয়ে বেশি আড়াই একর জমিতে ড্রাগন ফলের আবাদ করেছে নাহার এগ্রো গ্রুপ।
মিরসরাইয়ের পাহাড়ি ও উঁচু জমিতে ড্রাগন চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকেই। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বেকার যুবকরা ঝুঁকছেন এ বিদেশি ফল চাষে। গত ১ দশক ধরে বিভিন্ন ছোটবড় প্রজেক্টেও আওতায় ড্রাগন ফল চাষ করছে নাহার এগ্রো গ্রপ। শখের বশে শুরু করা এ প্রজেক্ট দেখেছে সফলতার মুখ। বর্তমানে সে শখের প্রজেক্ট রূপ নিয়েছে বাণিজ্যিক বাগানে।
নাহার এগ্রো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুর রহমান টুটুল জানান, বাংলাদেশের আবহাওয়া ড্রাগন চাষের অনুকূলে। পরিবার নিয়ে থাইল্যান্ড সফরকালে এই ড্রাগন ফলটির কয়েকটি কাটিং নিয়ে আসেন। এরপর মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড় এলাকার নাহার এগ্রো হ্যাচারির পতিত জমিতে চাষ শুরু করেন।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আমি থাইল্যান্ড থেকে দুটি চারা এনে লাগাই। গাছ দুটি বড় হলে কাটিং এর মাধ্যমে বাগানে গাছের সংখ্যা বাড়াই। আমার উদ্যেশ্য ছিলো দেশের মাটিতে উৎপাদিত তরতাজা ড্রাগন দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির কাছে পৌছে দেয়া। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতিকেজি ড্রাগন ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কথা হয় আরেক সফল চাষী বিপ্লব শর্মার সাথে। তার বাড়ি মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে। ইউটিউবে ড্রাগন চাষের সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখে তিনি ড্রাগন চাষে আগ্রহী হন। প্রাথমিকভাবে ৫ শতক জমিতে ড্রাগনের চাষ শুরু করে সফলতা পেয়েছেন তিনি। ২০২০ সালে শখের বশে শুরু করা ড্রাগনের বাগানটি আজ ফুলে ফলে ভরপুর।
বিপ্লব শর্মা বলেন, ড্রাগন চাষ আমার জন্য সম্পূর্ণ নতুন। তাছাড়া আমি পেশায় একজন স্বর্ণকার। বাগানটি ছিলো আমার জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ। ফাংগাল ইনফেনশন নিয়ে মাঝেমধ্যে বিপদে পড়ি। তবে উপজেলা কৃষি অফিস আমাদের পরামর্শ দিয়ে সহয়তা করে। আশা করছি শীগ্রই বাগানের খরচ উঠে আসবে।
ড্রাগন চাষের জন্য মিরসরাইয়ের মাটি ও আবহাওয়া কতটুকু উপযোগী জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, সব ধরনের মাটিই ড্রাগন ফল চাষের উপযোগী। তবে জৈব পদার্থ সমৃৃদ্ধ বেলে-দোআঁশ মাটিই ড্রাগন চাষের জন্য উত্তম। মিরসরাইয়ের পাহাড়ি ও উচু জমি ড্রাগন চাষের জন্য আদর্শ মাটি।
তিনি আরো বলেন, উপজেলায় বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কয়েকটি প্রদর্শনী বাগান রয়েছে। আমরা তরুণদের নতুন এ ফলটির চাষ করার ব্যাপারে উৎসাহিত করছি। যারা ইতোমধ্যে চাষ শুরু করেছেন উপজেলা কৃষি অফিস সবসময় তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে।








