বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, বীমা খাতে আস্থা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোম্পানিগুলোকে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। প্রতি সপ্তায়, মাসে বা বছরে জবাবদিহিতা স্পষ্ট থাকলে এ খাতে কেউ প্রতারণা করার সুযোগ পাবেন না।
দেশীয় বীমা খাতেন মূল্যায়ন করতে গিয়ে আনন্দবাজারকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এমনটাই বলেছেন তিনি। আহসান এইচ মনসুর আরো বলেন, সাধারণ আয়ের মানুষরাই সাধারণত আপদকালে বীমা করে থাকেন। তাই বীমার অর্থ সময় মতো পরিশোধ করা জরুরি। কোনো কোম্পানি প্রয়োজনের সময় বীমার অর্থ পরিশোধ না করে বিভিন্ন অজুহাত দেখালে তা প্রতারণা হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
বীমা খাতের নেতিবাচক দিক সম্পর্কে এই অর্থনীতিবিদ আনন্দবাজারকে বলেন, কিছু নামসর্বস্ব কোম্পানি রয়েছে যারা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কথা বলে সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করে। এসব কোম্পানির কাছ থেকে দূরে থাকাই ভালো। তবে বীমা করার ক্ষেত্রে যে গ্রাহকদেরও কিছু দায়িত্ব থাকে সে ব্যাপারে আহসান এইচ মনসুর বলেন, তারা যে কোম্পানিতে বীমা করবেন, সে সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ-খবর নিতে হবে। বড় অফিস, চকমকে সাইনবোর্ডই বড় কথা নয়। বীমার টাকা কতজনকে সময়মতো ফেরত দিয়েছে কোম্পানিটি, তা আগে জানতে হবে। এরপর মালিক বা পরিচালনায় যারা আাছেন তাদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিতে হবে। এসব বিষয় সন্তোষজনক হলেই কেবল সেই প্রতিষ্ঠানে বীমা করা যেতে পারে।
তবে বাংলাদেশে বীমা সম্ভাবনাময়খাত বলেও মনে করেন পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউটের এই নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, বীমাখাতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো যায়। সবসময় মনে রাখতে হবে আজকে সামান্য কিছু টাকা জমা রাখতে পারলে এক সময়ে তা একজন গ্রাহকের আপনজন হিসেবে কাজে লাগবে।
বীমা খাতের আওতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে পরামর্শ দিয়ে আহসান এইচ মনসুর বলেন, কোম্পানিগুলোকে শহর ছেড়ে উপজেলা পর্যায়ে যেতে হবে। এতে একদিকে যেমন গ্রাহক বাড়বে, তেমনি উপজেলা পর্যায়ের সুবিধা প্রাপ্তদের সংখ্যাও বাড়বে।
আনন্দবাজার/শহক







