খামার থেকে আয় অর্ধকোটি টাকা
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের সফিউল বাসার পল। ছাত্রজীবন থেকেই শুরু করেন বিভিন্ন খামার। বর্তমানে তিনি রংপুর বিভাগের একজন সফল খামারি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। একই সংঙ্গে গড়ে তুলছেন কৃষি, মৎস্য, পোল্ট্রি ও ডেইরী খামার।
পারিবারিক বাঁধা-বিঘ্ন কাটিয়ে সাফল্যে ও বেকারত্ব দূরিকরণে তিনি বেশ আত্মপ্রত্যয়ী খামারি। তাঁর এ সফলতায় এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক খামার। পরিনিত হয়েছে খামারি গ্রাম।
সফিউল বাসার পল ব্যক্তি উদ্যোগ ও ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ২৬ একর জমিতে চার ধরণের খামার গড়ে তুলেছেন। খামারই তাঁর ধ্যান ও জ্ঞান। সকাল থেকে প্রতিটি খামারে বিচরণ তাঁর। কোথাও কোনো সমস্যা আছে কি না। চাষাবাদের খেত ঠিক আছে কি না। গরু ঠিকমত খাচ্ছে কি না বা দিঘীতে মাছের বিচরণ ঠিক আছে কি না সবগুলো বিষয় খেয়াল রাখেন তিনি। রংপুর সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯২ সালে ¯œাতক পাশ করে চাকুরির পিছে না ছুটে খামার করতে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নেন পল। ২০০৩ সালে মহসিনা পোল্ট্রি নামে খামার শুরু করেন।
মাত্র ২২০টি মুরগী দিয়ে পোল্ট্রি খামার শুরু করে বর্তমানে তাঁর খামারে ২৮ হাজার মুরগী রয়েছে। তিন একর জমিজুড়ে পোল্ট্রি খামার। রংপুর বিভাগের মধ্যে অন্যতম দেশিয় প্রযুক্তিতে অত্যাধুনিক এ মুরগীর খামার থেকে প্রতিদিন ডিম উৎপাদন হয় দশ হাজারেরও অধিক। পোল্ট্রি খামার থেকে মাসে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ডিম বিক্রি করেন তিনি।
মৎস্য চাষের জন্য তাঁর রয়েছে ১০ একর জমির বিশাল পুকুর। পুকুরে শিং, মাগুর, সিলভার, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, কৈ চাষ হয়। প্রতি বছর ২৫ লাখ টাকার মাছ বিক্রয় করেন তিনি।
ছাত্রবস্থায় ১৯৮৫ সাল থেকে কৃষি কাজ দিয়ে খামার গড়ে তোলা শুরু করেন পল। সারাবছর ১০ একর জমিতে বিভিন্ন চাষাবাদ করেন। ফুলকপি, আলু, ভ‚ট্টা, ধান, ঘাস চাষাবাদ করা হয় অধিক। বছরে ২০-২৫ লাখ টাকা আসে কৃষি থেকে।
গরু মোটাতাজা করণ, হলেস্টাইন ফ্রিজিয়ান ও দুগ্ধজাত গাভী পালন করেও বেশ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন পল। ৩ একর জমিতে তৈরি এম.ডাবিøউ এগ্রো লিমিটেড ডেইরী ফার্মে রয়েছে ৬৬টি গরু। সেখান থেকে প্রতিদিন দুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়। প্রতিদিন প্রায় দেড়শ লিটার দুধ উৎপাদন হয়ে থাকে। বছরে প্রায় ১৮ লাখ টাকা আয় হয়ে থাকে।
তাঁর এসব খামারে অনেক পরিবার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করে বর্তমান তাঁর এসব খামার প্রায় ৮ কোটি টাকার সম্পদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর খরচ বাদে আয় অর্ধকোটি টাকার বেশি।
খামার দেখভালের জন্য সফিউল বাসার পল ১৫ জন কর্মচারি রয়েছে। প্রতিজনকেই পরিবার নিয়ে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, শ্রমিকদের সন্তানের লেখাপড়ার সব খরচও দেন তিনি।
খামারের কর্মচারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওরা আমার সহযোগী। ওরা কষ্টে থাকলে আমি কখনো ব্যবসায় লাভবান হতে পারব না।’
কর্মচারী আমিনুর রহমান বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে এ খামারে কাজ করছি। এতে আমার পরিবার ও ছেলে মেয়েদের খরছসহ সংসার চলছে। আল্লাহর রহমতে আমার সংসার ভালো চলছে।
সফিউল বাসার পল জানান, ১৯৮৫ সালের দিকে দেখেছি মানুষ ভাত খেতে পারতোনা। দলে দলে লোক বাইরে যেত কাজ করতে। এক কেজি চালের জন্যে ৫০ কেজি ধান ঢেঁকিতে ভাঁনত। মানুষের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে দায়বদ্ধতার থেকে উত্তারাধিকারী সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ কাজে লাগিয়ে আমার এ সকল খামার গড়ে তোলা। তিনি আরও বলেন, ছাত্র থাকাবস্থায় কৃষি, মৎস্য, পোল্ট্রি ও ডেইরী খামার গড়ে তুলতে মনোনিবেশ করি। সরকারি-বেসরকারি অর্থসহায়তা পেলে খামার আরও সম্প্রসারিত করতে ইচ্ছে আছে। সে অনুযায়ী কাজ করছি।’
পাটগ্রাম উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শ্যামল চন্দ্র রায় জানান, ‘সফিউল বাসার পলের পোল্ট্রি খামারটি এ এলাকায় সবচেয়ে বড়। তাঁর ডেইরী খামারও বেশ ভালো। তিনি একজন সফল খামারি।’ তার দেখে অনেকে নতুন নতুন খামার তৈরি করছেন।
আনন্দবাজার/এম.আর








