২০২০-২১ অর্থবছরের মাথাপিছু আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধরণ করা হয়েছে ২ হাজার ৩২৬ ডলার। সেই হিসেবে প্রতি ডলার সমান ৮৬ টাকা ধরে মাথাপিছু আয় হবে ২ লাখ ৩৬ টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। করোনা ভাইরাস সংকটময় পরিস্থিতি ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মানুষের জীবন-জীবিকার কথা চিন্তায় রেখে এবারের বাজেটের শিরোনাম ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ: ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা’।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুততার সাথে সমৃদ্ধি অর্জন করছে। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে মাথাপিছু বার্ষিক আয় ছিল মাত্র ৬৭৬ টাকা, এই হিসেবে একজন মানুষের দৈনিক আয় ছিল ১ টাকা ৮৫ পয়সা। ফলে মাথাপিছু আয় কখনও কমেনি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেতে পেতে ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৪০ টাকা হয়েছে। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দু’শত ছত্রিশ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে মাথাপিছু আয়। স্বাধীনতার পর থেকে মাথাপিছু আয় কখনও কমেনি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি সব সময় ইতিবাচক ছিল। একইসাথে বৃদ্ধি পেয়েছে মাথাপিছু আয়। স্বাধীন দেশের শুরুতে মাথাপিছু আয় ছিল ৬৭৬ টাকা, সেখানে মাত্র দুই যুগ পর (১৯৯৫-৯৬) সে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ১১ হাজার ১৫২ টাকা। তারপরে ১৯৯৮-৯৯ সালে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ১৪৩ টাকা। এক ধাপে ২০০০-০১ সালে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৩ হাজার ৯১ টাকা। এর পরে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৩৬ হাজার ৪৪৮ টাকা, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৬৬ হাজার ৪৪ টাকা মাথাপিছু আয় হয়েছে।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে লাখ টাকা ছাড়ায় মাথাপিছু আয়। এই সময় মাথাপিছু আয় দাঁড়ায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৬২১ টাকা। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় দাঁড়ায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৪০ টাকা। স্বাধীন বাংলাদেশে মাথাপিছু আয়ের বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সব সময় বাড়তি। বিশ্ব অর্থনীতির সাথে পাল্লা দিয়ে সমানভাবে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। জিডিপি আর মাথাপিছু আয় তারই ইঙ্গিত বহন করে।
আনন্দবাজার/এফআইবি








