পুঁজিবাজারে সব ধরনের সূচক পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন কমেছে ৫৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর। আগের কার্যদিবস থেকে এদিন ডিএসইর লেনদেন পরিমাণ বাড়লেও সিএসইর কমেছে। গতকাল রবিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই ও সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দুই স্টকের এদিন (রবিবার) ৫৯ দশমিক ৫০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং সিএসইর ৫৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। এদিন উভয় স্টকের ৩০ দশমিক ৫৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৩১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং সিএসইর ৩০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়েছে। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের বাড়া-কমাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
এদিন ডিএসইতে চামড়া, সিরামিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, জ্বালানি শক্তি, বস্ত্র, পাট, টেলিকমিউনিকিশন, পেপার, বিমা, ওযুধ রসায়ন, খাদ্য আনুষঙ্গিক এবং আইটি খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এদের মধ্যে চামড়া খাতের ৮৩ শতাংশ, সিরামিক খাতের ৮০ শতাংশ, ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ৭৬ শতাংশ, জ্বালানি শক্তি খাতের ৭৪ শতাংশ, বস্ত্র খাতের ৭২ শতাংশ, পাট খাতের ৬৭ শতাংশ, টেলিকমিউনিকিশন খাতের ৬৭ শতাংশ, পেপার খাতের ৬৭ শতাংশ, বিমা খাতের ৬৪ শতাংশ, ওযুধ রসায়ন খাতের ৬২ শতাংশ, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ৫৭ শতাংশ এবং আইটি খাতের ৫৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। পুঁজিবাজারের কোম্পানিরগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের হ্রাস স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না বিনিয়োগকারীরা। মতিঝিল এলাকার বেশকিছু সিকিউরিটিজ হাউজ ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৩৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২১৯ কোটি টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮০টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১১৮টির, কমেছে ২২৯টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩৩টির।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৫ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৯১ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে।
এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১৭ দশমিক ১৮ পয়েন্ট ও ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ৮ দশমিক ৮০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৫৮৫ দশমিক ১৫ পয়েন্টে ও ১ হাজার ৪৯১ দশমিক ১৬ পয়েন্টে। টাকার অংকে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- বেক্সিমকো, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, পাওয়ার গ্রিড, কুইন সাউর্থ, ওরিয়ন ফার্মা, সাইফ পাওয়ারটেক, ম্যাকসন স্পিনিং, মালেক স্পিনিং, আরএকে স্পিনিং, মতিন স্পিনিং।
অপর পুঁজিবাজারে রবিবার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ৪৮ কোটি ৫ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০৩টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৯১টির, কমেছে ১৭৮টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩৪টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৯৭ দশমিক ২৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে।
এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৬ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ৬ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৫৮ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্ট ও সিএসআই সূচক ১২ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৫১৪ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে, ১৪ হাজার ২৮৫ দশমিক ২৬ পয়েন্টে, ১২ হাজার ৩০৮ দশমিক ৩১ পয়েন্টে ও ১ হাজার ২৭৬ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে। টাকার অংকে সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- ফার্স্ট জনতা ফান্ড, কুইন সাউর্থ, বেক্সিমকো, আরডি ফুড, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, এমআই সিমেন্ট, আরএকে সিরামিক, বিবিএস, লার্ফাজ-হোল্ডসিম।
আনন্দবাজার/শহক








