কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে চলতি মৌসুমে তুলার বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর তুলার দাম ভালো থাকায় লাভবান হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন প্রান্তিক চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূল ও হাইব্রীড জাতের বীজ ভালো হওয়ার কারণে উপজেলায় তুলার বাম্পার ফলন হয়েছে।
এ দিকে গত কয়েক বছরের চেয়ে এ বছর তুলার দাম মণ প্রতি ১ হাজার ২০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৬০০ টাকা মন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। সরকারি ভাবে সম্প্রসারিত তুলা চাষ প্রকল্পের বিভিন্ন প্রণোদনা ও উপজেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের পরামর্শে চলতি মৌসুমে তুলা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে উপজেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে তুলার ফলন হয়েছে অন্য বছররের তুলনায় অনেক ভালো।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের ধুলারকুটি কৃষ্ণানন্দ বকসী এলাকার কৃষক হযরত আলী জানান, উপজেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ডর সার, বীজসহ বিভিন্ন ধরণের ঋণ সহায়তা পেয়ে ১৫ বছর ধরে তুলা চাষ করে আসছি। তিনি প্রতি বছর দুই বিঘা জমিতে তুলা চাষ করেন। এবছরও তিনি তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার পরামর্শে দুই বিঘা জমিতে তুলার চাষ করেছেন। এ বছর ফলন ও তুলার দাম ভালো থাকায় অন্য বছরের তুলনায় তিনিসহ তুলা চাষিরা লাভবান হবেন।
একই এলাকার তুলা চাষি আব্দুল বাতেন জানান, ১ বিঘা জমিতে তুলা চাষ করেছি। ১ বিঘা জমিতে তুলা চাষ করতে খরচ কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। জমিতে তুলা চাষ করার জন্য সার,বীজসহ সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা অফিসেই বহন করে। কোনো কৃষকের টাকা-পয়সা না থাকলেও তুলার চাষ করতে পারবে। তুলা উন্নয়ণ অফিস কৃষকদের আগাম সার, বীজ ও ঋণসহ বিভিন্ন ধরণের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে। তুলা বিক্রি করেই তা পরিশোধ করতে হয়।
তিনি আরও জানান, গত কয়েক বছর ধরে সরকারিভাবে তুলার মণ ২ হাজার ৪০০ টাকা ছিল। এ বছর সরকারি ভাবে তুলার মণ ১ হাজার ২০০ টাকা বৃদ্ধি করে ৩ হাজার ৬০০ টাকা তুলার মন হওয়ায় আমরা অন্য বছরের তুলনায় এবছর দামটা ভাল পাচ্ছি। এরকম দাম থাকলে তুলা চাষিরা লাভবান হবেন এবং তুলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবেন চাষিরা।
আনন্দবাজার/শহক








