রাজধানীর ধানমন্ডিতে অ্যামেরিকান বার্গারে (ফাস্ট ফুড) অভিযান চালিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর। অভিযানে গত চার মাসের ১৮ লাখ টাকার অধিক বিক্রয়ের প্রমাণ পেলেও পায়নি ভ্যাট প্রদান তথ্য। ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অ্যামেরিকান বার্গারের ম্যানেজার পরিচয়দানকারী একজন বলেন, ক্রেতার অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের ফার্স্ট ফুডে অভিযান চালায় ভ্যাট গোয়েন্দা। এতে আমাদের ফাস্ট ফুডের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করে। তাই ভ্যাট ফাঁকি কতো হয়েছে, সেটা বলতে পারবো না।
মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা আমেরিকান বার্গারে খাবার খেয়ে বিল দিতে গিয়ে ভ্যাটের চালান চান। কিন্তু প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের চালান না দেয়ায় ক্রেতা ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরে গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থার সহকারী পরিচালক মো. হারুন অর রশিদ বিকেল ৩টায় অভিযান চালায়। অভিযানে গোয়েন্দার দল দেখতে পায়, আমেরিকান বার্গার দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসা পরিচালনা করলেও ১৩ ডিজিটের ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করেনি। গোয়েন্দার দল ফাস্ট ফুডের পিওএস মেশিন থেকে বিক্রয় তথ্য জব্দ করে।
অভিযানকারী কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম অনুসন্ধানের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাব বিবরণী তলব করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটকে দ্রুত এই ফাস্ট ফুডকে নিবন্ধনের আওতায় এনে যথাযথ ভ্যাট আদায়ের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ভ্যাট আইন অনুসারে, যেকোন ভ্যাটযোগ্য ব্যবসা শুরুর পূর্বেই যথাযথভাবে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ এবং নির্ধারিত ৬.৩ ফরমে ক্রেতাদের ভ্যাট চালান ইস্যু করতে হবে। একইসঙ্গে মাস শেষে পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে স্থানীয় ভ্যাট অফিসে রিটার্নের মাধ্যমে তাদের নিকট থেকে সংগৃহীত ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক








