নদীতে পলিথিন, আশেপাশের বাড়ির ময়লা-আবর্জনা, বাজারের ময়লার ভাগাড় এবং গরুর রক্ত, গোবর, ভুড়ি ধোঁয়ানো থেকে শুরু করে অতিরিক্ত সব বর্জ্যই ব্রিজ থেকে নদীতে পেলা হয়। এতে নদীর পানি কালচে রঙ ধারণ করেছে। বর্জ্যে নদী দূষণের পাশাপাশি বায়ু দূষণও হচ্ছে
ময়মনসিংহের ত্রিশালের পৌর শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে সুতিয়া নদী। একসময় নদীই ছিল ত্রিশালের প্রাণ। এ নদী দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মালামাল আনায়ন করা হতো। তবে দিন দিন নদীটি নাব্যতা হারাচ্ছে। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, তখন এ নদীতে সারা বছর মানুষ গোসল, নামাজের জন্য ওজু, নৌকা চালাচল করতো। নদীতে মাছ পাওয়া যেত অনেক। সেই টলমল পানি এখন নিক্ষিপ্ত বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এখন বর্ষাকালের দুই-একমাস ছাড়া বাকি সারা বছরই নদী শুকনো থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের প্রধান সড়কের বুক চিঁড়ে বয়ে গেছে সুতিয়া নদী। নদী পারাপার হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে ব্রিজ। সেই ব্রিজের নিচে নদীর অংশে পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়। বাজারের দোকানদারদের সব ময়লা নদীর বুকে ফেলায় দূষণ ও দখলে চলে যাচ্ছে নদীটি। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে এ নদী। নদীতে পলিথিন, আশেপাশের বাড়ির ময়লা-আবর্জনা, বাজারের ময়লার ভাগাড় এবং গরু জবাই করার পর গরুর রক্ত, গোবর, গরুর ভুড়ি ধোঁয়ানো থেকে শুরু করে অতিরিক্ত সব বর্জ্যই এ ব্রিজের উপর থেকে পেলা হয়। ফলস্বরূপ নদীর পানি কালচে রঙ ধারণ করেছে। মূলত জনসাধারণের অসচেতনতার জন্যই প্রতিনিয়ত এ ব্রিজ থেকেই নিক্ষেপ করেন বর্জ্য। প্রচুর পরিমাণে বর্জ্য ফেলার কারণে একদিকে যেমন হচ্ছে নদী দূষণ অপরদিকে দেখা দিয়েছে বায়ু দূষণ।
পথচারী শেখ আসাদুজ্জামান সোহেল বলেন, কয়েক বছর আগেও এ নদীর পানিতে এমন ময়লা আবর্জনা ছিলনা। দিন দিন দূষণের মাত্রাবেড়ে যাচ্ছে। প্রত্যেক দিন পৌর শহরের সুতিয়া ব্রিজের উপর থেকেই প্রতিনিয়ত নিক্ষেপ করা হচ্ছে বর্জ্য। যে কেউ ইচ্ছামত ফেলে দিয়ে যাচ্ছে। এ সব কারণে বায়ু দূষণ হচ্ছে চারপাশে।
ব্রিজ সংলগ্ন একাধিক দোকানদাররা বলেন, আমরা এখানে ভালোভাবে বসে ব্যবসা করতে পারিনা। ব্রিজের নিচের ময়লা ফেলায় বর্জ্যের গন্ধে আমাদের বসে থাকা কষ্টকর হয়ে যায়। বাজারের বিভিন্ন দোকানের ময়লা-আবর্জনা এখানে এসে ফেলে যায়। দিনের বেলা কম ফেললেও রাতের অন্ধকারে হোটেলের আবর্জনাসহ নানান ময়লা বিজ্রের নিচে ফেলা হয়। এ ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে নদী দিন দিন তার প্রাণ হারাচ্ছে। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
লেখক ও সাহিত্যিক এস এম মাসুদ রানা বলেন, এ নদীর পরিবেশ একসময় অনেক ভালো ছিল। মানুষ গোসল করতো, মাছ ধরতো। তবে, বর্জ্য ফেলার কারণে নদী তার নব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। নদীর অনেক অংশ দখলও হয়ে গেছে। নদীতে ময়লা যাতে না ফেলা হয়। সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। নদী রক্ষায় আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিৎ।
ত্রিশাল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র রাশিদুল হাসান বিপ্লব বলেন, পৌর এলাকায় ময়লা, আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। তবে কে বা কাহারা রাতের অন্ধকারে নদীতে ময়লা, আবর্জনা ফেলে তা আমাদের জানানেই। তবে নদী দূষণমুক্ত রাখা আমাদের সকলের উচিত। পৌর এলাকায় নিদিষ্ট স্থানের ময়লা, আবর্জনা প্রতিদিন পরিষ্কার করা হয়। আমরা সচেতন হলেই নদী দুষন থেকে মুক্ত হবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, এটা আমি পৌরসভাকে জানাবো। এবং আমরাও উদ্যোগ গ্রহন করবো। জনগনকে যেন দুর্ভোগ পোহাতে না হয় এটা দ্রুতই পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা হবে। নদী দূষণমুক্ত রাখতে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে।








