- স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ীরা
গুনে মানে ও স্বাদে অন্যতম গাইবান্ধার রসমঞ্জুরী। প্রায় শত বছর ধরে গাইবান্ধার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে স্বাদে ভরা এ মিষ্টন্ন। মেহমানদের আপ্যায়নের অন্যতম মিষ্টান্ন রসমঞ্জুরী। একারনে বিভিন্ন জায়গায় রসমঞ্জুরীর জেলা নামেও পরিচিত লাভ করছে গাইবান্ধা। এখানকার তৈরি রসমঞ্জুরী যাচ্ছে দেশ পেরিয়ে বিদেশে। এ রসমঞ্জুরী তৈরি করে নতুন করে ব্যবসায়ী স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ীরা। চাহিদা বেশি থাকায় গাইবান্ধায় হাট বাজারে তৈরি হচ্ছে, মিষ্টিন্নর দোকান। এতে করে তৈরি হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে।
ইতোমধ্যে গাইবান্ধার মিষ্টার্ণ রসমঞ্জুরীকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রজেক্টের মাধ্যমে জেলা ব্রান্ডিং পণ্য ঘোষণা করা হয়েছে। চাহিদার উপরভিত্তি করে অন্যান্য জেলাতেও এ মিষ্টির দোকান প্রসারিত করার ব্যপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা আশ্বাস দিলেন জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান।
রমেশ মিষ্টার্ণ ভান্ডারের মালিক কালিচরন বলেন, মিষ্টান্নজাত দ্রব্যের প্রতি বাঙালির টান আদি কালের। লোভনীয় স্বাদ ও গুণাগুণের কারণে গাইবান্ধার রসমঞ্জরীর রয়েছে আলাদা সুনাম।
গাইবান্ধা পৌরসভার সাবেক মেয়র শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন বলেন, গাইবান্ধাতে বেড়াতে এসেছেন কিš‘ রসমঞ্জরীর স্বাদ নেননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে অফিস-আদালতে, অতিথি আপ্যায়নে রসমঞ্জরীর বিকল্প নেই এ জেলায়।
গাইবান্ধা মিষ্টার্ণ ভান্ডারের মালিক শামীম আহম্মেদ বলেন, আমরা প্রতিদিন অন্তত ৮ মণ রসমঞ্জুরী তৈরি করি। এজন্য বিভিন্ন স্থান থেকে দুধের ছানা ট্রাকযোগে কিনে আনি। আগে হাতেই তৈরি হতো রসমঞ্জুরীর গুটি। তবে, এখন আর সে অবস্থানে নেই। মানুষের চাহিদা ও পরিবেশ বান্ধব রাখতে রসমঞ্জুরীতে আর হাত ব্যবহার করা হয়না। মেশিনে গুটি তৈরি করে মেশিনের মাধ্যমে দুধে মেশানো হয়। আমাদের দেখাদেখি অনেকই রসমঞ্জরী তৈরি করে জীবন চলায়।
গাইবান্ধায় কয়েকটি দোকান আছে তার মধ্যে অন্যতম, গাইবান্ধা মিষ্টার্ণভান্ডার, নারু বাবুর দোকান, রমেশ মিষ্টার্ণ ভান্ডার। গাইবান্ধার চাহিদা পূরণ করে রসমঞ্জুরী যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। মানুষের রসনায় তৃপ্তি এনে দিতে বিদেশেও যাচ্ছে এ রসমঞ্জুরী।
রসমঞ্জরী তৈরীর উপকরণে থাকে গরুর খাঁটি দুধ, চিনি, দুধের ছানা ও ছোট এলাচ। গরুর দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন ক্ষীর করতে হয় এবং তাতে মেশাতে হয় পরিমাণ মতো চিনি। ছানা দিয়ে তৈরি ছোট ছোট গোলাকার গুটি চিনির সিরায় জ্বাল দিয়ে বাদামী রং হলে সিরা ঝরিয়ে রসগোল্লার গুটিগুলো ক্ষীরে মেশাতে হয়। পরে ঠান্ডা করে ক্ষীর গুটিগুলোসহ রসমঞ্জরী পাত্রে পরিবেশন করা হয়। আমের ছোট গুটির মতো রসগোল্লা দুধের ঘন ক্ষীরে মঞ্জুরিস্থ হয়ে দুটি ভিন্ন স্বাদের সমন্বয়ে সৃষ্টি করে তৃতীয় মাত্রার অপূর্ব স্বাদ। তাই এ মিষ্টির নাম রসমঞ্জরী।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো: অলিউর রহমান বলেন, একটি একটি রসালো সুস্বাদু মিষ্টার্ণ। এই রসমঞ্জুরী গাইবান্ধার বাজার মিটিয়ে দেশের বাইরেও চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন এটি আমাদের জেলা ব্রান্ডিং খাবার । যা মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়।








