চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বমানে সাজানোর প্রক্রিয়ায় এগিয়ে চলেছে। এমন একটি খবর প্রকাশ করেছে দৈনিক আনন্দবাজার। খবরটি নিঃসন্দেহে আশার সঞ্চার করে। যে দেশে এতকিছু খারাপ খবর তার মাঝে সমুদ্র বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের এই অগ্রযাত্রা আশান্বিত না করে পারে না। খবর অনুযায়ী আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ ভাগ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হচ্ছে এই বন্দর থেকে। এর ভেতরে আছে নানা সীমাবদ্ধতা। যা বন্দরের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে জটিলতার সৃষ্টি করছে। দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে এই বন্দরকে সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
যদিও নেয়া হয়েছে বহুমুখী পরিকল্পনা। যার মধ্যে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল, বে-টার্মিনাল ও লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ পরিকল্পনা। যদিও লালদিয়া টার্মিনালের বিষয়টি এখনো ফাইলবন্দী হয়েই আছে। এই ৩টি মেগা প্রকল্পের মধ্যে ২টি প্রকল্প অত্যধিক ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। ফলে শুধুমাত্র পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের কাজ এগিয়ে চলেছে। আসছে জুনে চালু হচ্ছে বলেও খবরে বলা হয়েছে। এই প্রকল্প পাস হয় ২০১৭ সালের ১৩ জুন। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। কয়েক দফায় এই সময় বাড়ানো হয়েছে। প্রশ্ন এখানেই প্রকল্পের কাজ যথাসময় শেষ হয় না কেন? এনিয়ে নানান কথা রয়েছে। সরকার নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এধরণের মেগাপ্রকল্প হাতে নিচ্ছে। এ প্রকল্পের পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অর্থ সংস্থান- এসব কিছু করতে সরকারকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। দেশি-বিদেশি নানামুখী চক্রান্ত অতিক্রম করতে হয়। এরপরই এসব প্রকল্পের অর্থ যোগাড় হয়। বাস্তবায়নের মুখ দেখে এখানে কথা বলতেই হয়। সরকারের এতকিছু ঝক্কি ঝামেলার মধ্যে নেয়া প্রকল্পের কাজ শেষ করতে এত গড়িমসি কেন? খুব স্বাভাবিকভাবেই এত সময় ক্ষেপণ, এত দেরিতে হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় যেসব প্রশ্নের জন্ম দেয় তার সব না হলেও অনেকাংশেই সত্য। সময় ক্ষেপণ হওয়ায় প্রকল্পের বাজেট খুব স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। এসব নিয়ে নানান কথা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। যদিও এই প্রকল্পের কাজ শেষ হতে বিলম্বের কারণ বলা হচ্ছে করোনা মহামারি।
এখন প্রশ্ন আসে তাহলে ঢাকার মেট্রোরেল আর পদ্মাসেতু এই মহামারির ভেতরেই সঠিক সময়ে কীভাবে শেষ হচ্ছে। ফলে করোনা মহামারির অজুহাত দেখিয়ে সত্য গোপন করা ঠিক হবে না। আসল কারণ খতিয়ে দেখতে হবে। বের করতে হবে কী কারণে, কাদের কারণে এরকম একটি জরুরি ও ব্যয়বহুল প্রকল্পের কাজ শেষ হতে এত বিলম্ব। কারণ বের করা সম্ভব হলে পরবর্তী কোনো প্রকল্পে সেই কারণগুলোর দিকে নজর দেয়া হলে প্রকল্প আর বিলম্ব হবে না। প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়বে না। প্রকল্পের কারণে যে ভোগান্তি তাও কমে যাবে। প্রয়োজনীয় সময়ে প্রকল্প কাজ করতে সক্ষম হবে। পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল সঠিক সময়ে চালু করা সম্ভব হলে শুধু প্রকল্প ব্যয় আর ভোগান্তি যে কমতো তাই-ই নয়। টার্মিনালের আয় বাড়তো। দেশের আয় বাড়ত।
রপ্তানি বাণিজ্যে দুই বছর আগেই বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতো। এই টার্মিনালের ফলে সারাবিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি-বাণিজ্য আরও প্রসারিত হতো। দেশের অর্থনীতি আরও চাঙা হতো। নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। কিন্তু সে সবে দেশ ২ বছর পিছিয়ে গেল। এ বিষয়টি ভাবতে হবে। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে ২ বছর অনেক বড় সময়। যারা এমন গুরু দায়িত্বে আছেন তাদের এ বিষয়গুলো ভাবতে হবে। যথাযথ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করুন। দায়িত্বে, কাজে অবহেলা করে সরকারের ক্ষতি, জনগণের ক্ষতি, দেশের ক্ষতি বন্ধ করুন। দেশ এগিয়ে যাওয়ার বাধা দূর করুন।








