বাজারে তেল, ডাল, চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বগুড়ার আদমদীঘিতে গত দুই সপ্তাহ আগে পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা কেজিতে। সেই কাঁচা মরিচ মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নেমে এসেছে সর্বনিম্ন ২০ টাকা কেজিতে। উপজেলার হাট বাজারে মরিচের দামে ধস নেমেছে। গতকাল সোমবার বিভিন্ন হাট বাজারে মাত্র ২০-৩০ টাকা কেজিতে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়।
উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম হাট থেকে মরিচ বিক্রি করতে আসা মরিচচাষি শালগ্রামের জহুরুল ইসলাম ও বেলাল হোসেন জানান, প্রকার ভেদে কাঁচা মরিচ ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন। তবে ভালোজাতের কিছু মরিচ ৩০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ পাইকারি ব্যবসায়ী নওগাঁর মিজানুর রহমান ও তিলকপুরের আমজাদ হোসেন জানায়, হাট বাজারে আমদানি বেশি হওয়ায় চাহিদা কমেছে। কাঁচামরিচ পঁচনশীল। তাই মরিচের দরপতন হয়েছে।
উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার মরিচ চাষের পরিমাণ কিছুটা বেশি। নিত্য দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাইকারি বাজারে কাঁচা মরিচের দামও বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
উপজেলার ছাতিয়ানগ্রামের মরিচ চাষি আমজাদ হোসেন জানান, প্রতি বিঘা জমিতে মরিচ চাষের জন্য প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। হঠাৎ পাইকারি বাজারে ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তোলা সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের মরিচ ক্রেতা সেলিম আহম্মেদ জানান, গত কয়েক দিন আগে খুচরা বাজারে যে মরিচ কিনেছিলাম ২০০ টাকা কেজি সোমবার সকালে সেই মরিচ ক্রয় করলাম মাত্র ২০ টাকা কেজি দরে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিঠু চন্দ্র অধিকারী জানান, উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়নেই মরিচ চাষ হয়েছে। সার্বক্ষণিক কৃষকের পাশে ছিল কৃষি বিভাগ। ফলে এবার মরিচের ফলনও ভালো হয়েছে।








