বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টান্ত অনুস্মরণে দুর্নীতি মুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলতে ও দুদকের ভাবমূর্তি উজ্জল করে জনগণের কাছে দুদকের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সততা ও ঈমানদারীত্বের সাথে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন (দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ।
গতকাল সোমবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজনে তিনি এ কথা বলেন। এতে প্রায় তিন শতাধিক দুদক কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। দুদক চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশের স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট নিহত তাঁর পরিবারের সকল সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বাঙ্গালী জাতির প্রতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল অকৃত্তিম ভালোবাসা ও বিশ্বাস জানিয়ে মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, কিন্তু বাঙ্গালী সেই বিশ্বাস ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করতে পারেনি। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর থেকে বঙ্গবন্ধুকে নানাভাবে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর তুলনা বঙ্গবন্ধুই। তাঁর মর্যাদাকে কেউ খাটো করতে পারবে না।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করার পরামর্শ দিয়ে মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে হলে তাঁর আদর্শকে লালন করতে হবে, তাঁর চারিত্রিক গুনাবলীকে ধারন ও অনুস্মরণ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে শুধু আলোচনায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে স্মরণ করে, তাঁর চারিত্রিক গুণাবলী, দর্শন,ও কার্যক্রমকে অনুকরণ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্নক সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের সকলকে দুর্নীতি মুক্ত, শোষণ মুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার শপথ নিতে বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের আত্নসমালোচনা ও আত্নশুদ্ধির পন্থা অবলম্বন করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে; বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টান্ত অনুস্মরণে দুর্নীতি মুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলতে ও দুদকের ভাবমূর্তি উজ্জল করে জনগণের কাছে দুদকের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সততা ও ঈমানদারীত্বের সাথে কাজ করতে হবে। দুদক চেয়ারম্যান বঙ্গবন্ধুর দর্শনের বিপরীতে কাজ না করার জন্য সকলকে আহ্বান জানান।
বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট নিহত সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের জীবিত সদস্যদের দীর্ঘায়ু কামনা করে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে দেশের অব্যাহত উন্নয়ন অগ্রযাত্রা কামনা করে দুদক চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
দুদক কমিশনার মো. জহুরুল হক তার বক্তব্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সবসময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মা তখনই শান্তি পাবে যখন আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হব। বঙ্গবন্ধু ৭৫ সালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে কথা বলেছেন আমরা আজও একই কথা বলছি। বঙ্গবন্ধুর আত্মা কিভাবে শান্তি পাবে আমরা জানিনা। পৃথিবীর ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোন রাষ্ট্র প্রধানকে হত্যার পর খুনিদের ইনডেমনিটি দেওয়া হয়নি, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রে এটি হয়েছে। যদিও দেরিতে হলেও আমাদের সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করে। এদেশে এ জঘন্য হত্যার বিচার হয়েছে এবং অপরাধীদের সাজা কার্যকর হয়েছে। দেরীতে হলেও ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে দায়ীদের খুঁজে বের করার জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিশন গঠণের আহ্বান জানিয়ে তার বক্তব্য সমাপ্ত করেন।
দুদকের সচিব মো. মাহবুব হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মাত্র ৫৫ বছর বেঁচে ছিলেন যার মধ্যে তিনি প্রায় ১৩ বছর জেলে ছিলেন। এই অল্প সময়ে যেভাবে তিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন এবং যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা যদি আমরা মনে গ্রথিত করে তাঁর দেখনো মতে ও পথে চলতে পারি এবং স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে যার যার পর্যায় থকে দেশের জন্য সঠিকভাবে কাজ করি তবে বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন 'স্বপ্নের সোনার বাংলা' অর্জনে আমরা সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারব।
বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন ও ১৫ আগস্টের কালো অধ্যায় সম্পর্কে আলোকপাত করেন জেলা কার্যালয়, গোপালগঞ্জ এর উপপরিচালক জনাব মোঃ সিফাত উদ্দিন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের আর্থ সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেন বিভাগীয় কার্যালয়, খুলনার পরিচালক জনাব মো. মঞ্জুর মোর্শেদ, ১৫ আগস্টের কালো অধ্যায়ের প্রেক্ষাপটে আমাদের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি সম্পর্কে আলোচনা করেন পরিচালক (সম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. মনিরুজ্জামান খান এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মীর রুহুল আমিন।
আলোচনা সভার শেষে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট নিহত সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের জীবিত সদস্যদের দীর্ঘায়ু কামনা করে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে দেশের অব্যাহত উন্নয়ন অগ্রযাত্রা কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।








